জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য করে সদ্য পদত্যাগ করা প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন বলেছেন, আইনের ফাঁকফোকর খুঁজে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যেতে পারে। মামলা হলে তিনি নিজেই আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাবেন বলেও জানিয়েছেন।
সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ইশরাক।
পোস্টে নাহিদ ইসলামের সমালোচনা করে ইশরাক বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান ও মাদক নির্মূলের উপায় নিয়ে আলোচনা না করে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক। এতে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা ও এর প্রতিকার নিয়ে আগে কথা বলা উচিত ছিল।
ইশরাক লেখেন, ‘জনাব নাহিদ ইসলামকে একটু হলেও নতুন বন্দোবস্তের ধারক ভাবতাম। আমার প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি মাদকের মহামারি ও এর প্রতিকার সম্পর্কে শূন্য শতাংশ কথা বলে ১০০ শতাংশ আমার ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিলেন। তাহলে নাকি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আগে মাদকের ইস্যুটা অ্যাড্রেস করলে ভালো হতো না? তারপরে আমাকে ফাঁসিতে ঝোলাতেন। দুঃখিত জেন-জি, কোনো নতুন বন্দোবস্ত এদের মাধ্যমে পাচ্ছেন না।’
পোস্টে ইশরাক আরও দাবি করেন, এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে মাদকের কারণে সমাজ ধ্বংস হওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন অভিযানে তাঁকে সঙ্গে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
মাদক নির্মূলে প্রচলিত রাজনৈতিক পদ্ধতির সমালোচনা করে ইশরাক বলেন, মাদকবিরোধী পদক্ষেপ নিতে গিয়ে আইনপ্রণেতা হিসেবে পুলিশের সহায়তা নিয়ে অভিযান চালানোর পরও ফৌজদারি মামলার মুখে পড়তে হলে তা হতাশাজনক।
নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ফৌজদারি অপরাধ বের করে একটা মামলা করে দেন আমার নামে। আমি নিজে গিয়ে সারেন্ডার করে জেলে চলে যাব। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বলে কথা! এইভাবে ঘোড়ার ডিম রাজনীতি এরা করে যাবে। কিছুই পরিবর্তন করতে পারবে না।’
পোস্টের শেষাংশে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ভিন্ন কৌশলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ইঙ্গিত দেন ইশরাক। তিনি লেখেন, ‘অন্য স্টাইলে প্রতিকার করতে হবে। যেমন কুকুর, তেমন মুগুর। শীঘ্রই আসিতেছে। বড় ডিলার/বিক্রেতারা অপেক্ষা কর।’
তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।




