রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের অচলাবস্থা কাটিয়ে শান্তির পথ খুঁজতে দেশটির মিয়ামিতে মার্কিন, ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ, ইউক্রেনের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, শুক্রবারের বৈঠক ছিল গঠনমূলক। শীত আসার আগেই রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমানো, যুদ্ধের অবসানে সম্ভাব্য পথ খোঁজা এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির সমন্বিত উদ্যোগ ‘ই৩’, ইউরোপীয় কমিশন, ইউক্রেন এবং ন্যাটোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, শস্য রপ্তানি, ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) দেশটির অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টায় সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান উইটকফ।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক অচলাবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বৃহস্পতিবার তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।
লিসবনে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ‘অচলাবস্থার আরেকটি পরিণতি হতে পারে সংঘাতের আরও বিস্তার।’
এতে ইউক্রেনের প্রতিবেশী ন্যাটো সদস্য দেশগুলোও যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। রুবিওর ভাষ্য, এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান আছে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে না।
ডিজেল সরবরাহে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের চুক্তি
যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর ট্রাম্প জানান, রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের সুযোগ দিতে সাময়িক অনুমতিপত্র জারি করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প ও পুতিনের ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প বারবার রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করেছেন। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে গত মাসে মস্কো ও কিয়েভ সফর করেছিলেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নতুন কিছু প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন।
শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত থাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। ফলে সংঘাত বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছানোর তাগিদও বাড়ছে।
এদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধের সম্মুখসারিতে থাকা ক্রামাতোরস্ক শহরে একটি বাসে চালানো হামলায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নতুন প্রস্তাবের বিস্তারিত এবং যুদ্ধ বন্ধে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কতটা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।




