গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতিতে দেশের শিল্পকারখানায় আবারও উৎপাদনের গতি ফিরতে শুরু করেছে। কয়েক মাসের গ্যাস সংকটে তৈরি হওয়া উৎপাদন ঘাটতি পুষিয়ে নিতে উদ্যোক্তারা বাড়তি কর্মঘণ্টা, ছুটির দিনে উৎপাদনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় গ্যাসনির্ভর শিল্পে স্বস্তি ফিরেছে। ফলে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আগের ঘাটতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে অনেক কারখানায় নিয়মিত সময়ের বাইরেও অতিরিক্ত উৎপাদন চালানো হচ্ছে।
বাড়তি সময় কাজ করে ঘাটতি পোষানোর চেষ্টা
শিল্প মালিকরা জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকা ও সরবরাহে বিঘ্নের কারণে গত কয়েক মাসে অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে সময়মতো পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বেড়েছে।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক বলেন, গ্যাস সংকটে অতীতে অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হলেও বর্তমানে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন আগের তুলনায় ভালো হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানি সংকটের কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখা কঠিন হলেও সরকার বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে কাজ করছে। সরকার ও শিল্প মালিকদের যৌথ প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই শিল্প খাতে উৎপাদন পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিদিন ২–৩ ঘণ্টা অতিরিক্ত উৎপাদন
শীর্ষস্থানীয় পোশাক ও টেক্সটাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রেজা গ্রুপের চেয়ারম্যান শহীদ রেজা শিমুল বলেন, বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদন পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
তিনি জানান, গ্যাস সংকটের সময়ে তৈরি হওয়া উৎপাদন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে কারখানায় প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারেও উৎপাদন চালু রাখা হচ্ছে।
শহীদ রেজা শিমুল বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া বা সরবরাহ বন্ধ থাকার সময় উৎপাদন সচল রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যবস্থাপনায়ও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় সেই বাড়তি চাপ কমে আসছে।
‘উৎপাদন পরিস্থিতি খুব ভালো’
দেশ গ্রুপ অব কোম্পানিজের পরিচালক ও বিজিএমইএর সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান বলেন, বর্তমানে তাদের উৎপাদন পরিস্থিতি ভালো। সরকার, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গ্যাস সংকট কাটিয়ে কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্যাসের চাপ ভালো থাকায় আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেক উন্নত হয়েছে। আগামীতে কারখানার উৎপাদন পরিস্থিতি আরও ভালো হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিল্প খাতে স্বস্তির প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ পরিস্থিতির বর্তমান উন্নতি অব্যাহত থাকলে শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন আরও বাড়বে। একই সঙ্গে গ্যাস সংকটের সময়ে তৈরি হওয়া উৎপাদন ঘাটতিও ধীরে ধীরে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সরকার ও শিল্প মালিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই শিল্প খাতে স্বাভাবিক উৎপাদন পরিবেশ পুরোপুরি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




