কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ (এসআই) ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সরকারের সরকারি যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটির পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নাম ব্যবহার করা হবে। তাঁর দাবি, ‘আর্টিফিশিয়াল’ বা কৃত্রিম শব্দটি প্রযুক্তিটির সক্ষমতাকে যথাযথভাবে তুলে ধরে না।
ট্রাম্প বলেন, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি শুনতে ভালো এবং এটি প্রযুক্তিটির জন্য আরও যথার্থ। বিশ্বের অন্যান্য দেশও নতুন নামটি গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় এআই নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক কাঠামো তৈরির বিরোধিতা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে কোনো বৈশ্বিকতাবাদী কাঠামো তৈরির প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করবে।
এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারীদের বক্তব্যের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দেওয়া সতর্কবার্তার তুলনাও করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকে এবং ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ও এর ব্যতিক্রম নয়।
এআই নিরাপত্তায় বৈশ্বিক উদ্যোগ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের সমন্বয়ে ২০টিরও বেশি দেশের নেতারা উন্নত এআইয়ের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
তাঁদের আশঙ্কা, এআই প্রযুক্তির বিকাশ একপর্যায়ে এটি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এআই প্রযুক্তিতে শীর্ষস্থানীয় দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এই উদ্যোগে সমর্থন দেয়নি।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে যুক্তরাজ্য জি-২০-এর সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে বৈশ্বিক এআই মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় সাইবার হামলা শনাক্তে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এআই প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের কথাও জানান তিনি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রভাবমুক্ত এআই প্রযুক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি একটি অত্যাধুনিক ওপেন সোর্স এআই মডেল তৈরির প্রস্তাব দেন, যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংলাপের আহ্বান গুতেরেসের
এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, যেসব সরকারের এআই সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি, মানবতার প্রতি তাদের দায়িত্বও সবচেয়ে বেশি। তাই তাদের মধ্যে সংলাপের পথ তৈরি করা প্রয়োজন।
গুতেরেস এ আলোচনাকে স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে কৌশলগত ঝুঁকি মোকাবিলায় যোগাযোগের সঙ্গে তুলনা করেন।
এদিকে, ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে এআই নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যোগাযোগের একটি চ্যানেল তৈরির আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও এআইয়ের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক শান্তির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানসহ প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।




