34.5 C
Bangladesh
Tuesday, August 11, 2026
BRS TIMES
আফজাল হোসেন আফসানা মিমি
প্রচ্ছদবিনোদনশিরোনাম

আফজাল হোসেন–আফসানা মিমিকে নিয়ে ‘রঙিন সুরমা’, আজ রাতেই চরকিতে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাহিদাগুলোও বদলে যায়। কমে আসে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, কিন্তু বেড়ে যায় হারানোর ভয়। জীবনের এই সময়ে অসুস্থতা, একাকিত্ব, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি করে নতুন বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার মধ্যেও মানুষ কীভাবে বেঁচে থাকার নতুন অর্থ খুঁজে নেয়, সেই গল্পই বলা হয়েছে ‘রঙিন সুরমা’-য়।

চরকির নতুন এই ফ্লিকের প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমি। গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং পরিচালনা করেছেন রিয়াজুল হক ইমরান। সীমিত দৈর্ঘ্যের এই কনটেন্টটি আজ রাত ১২টায় চরকিতে মুক্তি পাবে।

‘রঙিন সুরমা’য় মুন্তাসির ও শাহিদার গল্প

‘রঙিন সুরমা’র গল্প আবর্তিত হয়েছে মুন্তাসির ও শাহিদাকে ঘিরে। জীবনের শেষ প্রান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়া এই দুই মানুষ বয়স, সময়, না-পাওয়া, ভয় এবং কিছু অনিবার্য সত্যের মুখোমুখি। এসব ক্ষয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও তাঁরা একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

গল্পে খুব বড় কোনো ঘটনার চেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে মানুষের ভেতরের অনুভূতি। বয়সের সঙ্গে যখন জীবনের অনেক দরজা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসে, তখন একজন মানুষের পাশে আরেকজন মানুষের উপস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, সেটিই গল্পের অন্যতম জায়গা।

সত্য ও মিথ্যার নানা রঙে তৈরি ‘রঙিন সুরমা’

গল্পটির অন্যতম আকর্ষণ সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্ব। নির্মাতা রিয়াজুল হকের ভাবনায় সত্যের রং ধূসর। কারণ সত্য স্থির, তাকে ইচ্ছেমতো বদলে নেওয়া যায় না। বিপরীতে মিথ্যার রয়েছে অনেক রং।

একটি মিথ্যাকে টিকিয়ে রাখতে কখনো জন্ম নেয় আরও মিথ্যা। সেই মিথ্যা কখনো ভালোবাসার মতো কোমল, কখনো আনন্দের মতো উজ্জ্বল। আবার কখনো আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।

এই সত্য-মিথ্যার রং থেকেই এসেছে ‘রঙিন সুরমা’ নামটি। মুন্তাসির ও শাহিদার জীবনও অনেকটা ধূসর। বয়স, সময়, সম্পর্ক, না-পাওয়া এবং ভয় তাঁদের ঘিরে আছে। সেই বাস্তবতার মধ্যেই কিছু সত্য আড়াল করে তাঁরা নিজেদের জন্য তৈরি করেন কিছু রঙিন মুহূর্ত।

কেন ‘রঙিন সুরমা’ করতে আগ্রহী হলেন আফসানা মিমি?

গল্পটি পড়েই আফসানা মিমি কাজটির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। নির্মাতা রিয়াজুল হক ইমরান চিত্রনাট্য পাঠানোর পর প্রথমেই গল্পের নামটি তাঁর দৃষ্টি কাড়ে। এরপর গল্প পড়তে শুরু করে শেষ করেছেন চোখে জল নিয়ে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাজটি শেষ হওয়ায় এখন দর্শকদের সামনে ‘রঙিন সুরমা’ দেখার অপেক্ষায় আছেন এই অভিনেত্রী।

আফজাল হোসেনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে আলাদা। পর্দায় যাঁকে দেখে ভালোবেসেছেন, তাঁর সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াকে সৌভাগ্যের বিষয় মনে করেন মিমি। তাঁর মতে, আফজাল হোসেন কাজের সময় সবকিছু খুব সহজ করে দেন এবং বন্ধুর মতো সহযোগিতা করেন।

আফজাল হোসেনের কাছে গল্পটির বিশেষত্ব কোথায়?

আফজাল হোসেনও চিত্রনাট্য পড়েই ‘রঙিন সুরমা’য় অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর কাছে গল্পটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর শান্ত আবেগ।

এখনকার সময়ে দর্শকদের মনোযোগ টানতে অনেক সময় উত্তেজনাপূর্ণ ও গরম-গরম গল্প সামনে আসে। সেই জায়গায় ধীর, ঠান্ডা মেজাজের এবং শিরশিরে অনুভূতির একটি গল্প নিয়ে কাজ করার ভাবনাটিই তাঁকে আগ্রহী করেছে।

আফজাল হোসেনের আশা, ‘রঙিন সুরমা’র আবেগ দর্শকের আবেগকেও স্পর্শ করবে।

নির্মাতা রিয়াজুল হকের ভাবনায় ‘রঙিন সুরমা’

‘রঙিন সুরমা’র গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন রিয়াজুল হক। তাঁর মতে, সব সত্য সব সময় মানুষকে বাঁচায় না। কখনো একটি মিথ্যা মানুষকে প্রিয় মানুষের পাশে থাকার সুযোগ করে দেয়। কখনো কোনো সম্পর্ককে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করে। আবার কখনো জীবনের শেষ আলোটুকু ধরে রাখতেও সেই মিথ্যার প্রয়োজন হয়।

তাই ‘রঙিন সুরমা’ তাঁর কাছে এক ধরনের বৈপরীত্যের গল্প। ধূসর জীবনের চোখে মানুষ যে সামান্য রং এঁকে নেয়, সেটিই কখনো হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার শক্তি।

সব বয়সী দর্শকের জন্য ‘রঙিন সুরমা’

নির্মাতার মতে, ‘রঙিন সুরমা’ কোনো নির্দিষ্ট বয়সের দর্শকের জন্য তৈরি নয়। বয়সভেদে গল্পটি দর্শকের কাছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ তৈরি করতে পারে।

তরুণ দর্শকের কাছে এটি হয়তো সম্পর্ক ও ভালোবাসার গল্প হয়ে উঠবে। আবার বয়সী দর্শকের কাছে একাকিত্ব, হারানোর ভয় কিংবা জীবনের শেষ সময়ে পাশে থাকার প্রয়োজনীয়তার গল্প হিসেবে ধরা দিতে পারে।

চরকিতে আজ রাত ১২টায় মুক্তি

চরকির নতুন এই কনটেন্টে আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমির মতো গুণী দুই অভিনয়শিল্পীকে একসঙ্গে দেখা যাবে। বরেণ্য অভিনয়শিল্পীদের কেন্দ্র করে দেশে তুলনামূলক কম কাজ হয় বলে মনে করেন চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি। তাঁর মতে, ‘রঙিন সুরমা’ সেই জায়গায় কিছুটা ভিন্ন ধরনের কাজের চেষ্টা করেছে।

সব মিলিয়ে আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমির ‘রঙিন সুরমা’ হতে যাচ্ছে চরকির আবেগনির্ভর একটি গল্প। এখানে বড় কোনো ঘটনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে মানুষের অনুভূতি, সম্পর্ক এবং জীবনের শেষ প্রান্তেও বেঁচে থাকার ছোট ছোট কারণ।

‘রঙিন সুরমা’ আজ রাত ১২টায় চরকিতে মুক্তি পাবে। এখন অপেক্ষা, দর্শকের কাছে আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমির এই নতুন গল্প কতটা জায়গা করে নেয়।

Related posts

স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

News Desk

হবিগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে অভিযান, আটক ৩

News Desk

গাজার যুদ্ধ বন্ধে মুসলিম নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক

News Desk

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘এরিন’

News Desk

টাকার বিনিময়ে বদলি জেল খাটতে এসে ফিঙ্গারপ্রিন্টে ধরা

News Desk

সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

News Desk
Translate »