27.2 C
Bangladesh
Sunday, September 27, 2026
BRS TIMES
ADANI AROGYA MANDIR
আন্তর্জাতিকপ্রচ্ছদশিরোনাম

পশ্চিমবঙ্গে হাসপাতাল নির্মাণ করবে আদানি গ্রুপ, বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের ঘোষণা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নিউটাউনের বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি টেক হাবে ২ হাজার শয্যাবিশিষ্ট ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ৫১.৭৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই হাসপাতালে বিনিয়োগ হবে ৫,১৬০ কোটি টাকা (৪,০০০ কোটি রুপি), যা বাস্তবায়ন করবে আদানি ফাউন্ডেশন। এই প্রকল্পকে চিকিৎসা পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যেখানে প্রতিবেশী দেশের রোগীরাও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারেন।
এই নতুন হাসপাতাল থেকেও বাংলাদেশের সরাসরি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা বাংলাদেশের সীমান্তের খুব কাছে হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বহু বাংলাদেশি রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখানে যাতায়াত করেন, বিশেষত ক্যান্সার, হৃদরোগ ও জটিল অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে। আদানি আরোগ্য মন্দিরের প্রথম ধাপেই ক্যান্সার চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা-সুবিধা চালুর ঘোষণা থাকায়, ভবিষ্যতে এই হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের জন্যও একটি নতুন ও তুলনামূলক কাছের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
আদানী গ্রুপের ভাষ্যমতে, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বছরে দুই লাখেরও বেশি রোগী ভর্তি হতে পারবেন এবং বহির্বিভাগে সেবা পাবেন প্রায় ২০ লাখ রোগী, তৈরি হবে প্রায় ১০ হাজার কর্মসংস্থান। প্রথম ধাপে গুরুত্ব পাবে ক্যান্সার চিকিৎসা। হাসপাতালের পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের থাকার জন্য গড়ে তোলা হবে মেডিটেল ও বিশ্রামগৃহ। ক্যাম্পাসে থাকবে মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ ও একটি গবেষণা বাস্তুতন্ত্র, যেখানে জিনোমিক্স, প্রিসিশন মেডিসিন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণায় সহযোগী হিসেবে যুক্ত থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিক গ্লোবাল কনসাল্টিং ও সিঙ্গাপুরের সিংহেলথ।
আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি জানান, এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের ২ হাজার শয্যার মধ্যে ১ হাজার শয্যা রাখা হবে অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য, যারা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পাবেন।
গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরের সঙ্গে তুলনা করে পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ব ভারতে তাদের গ্রুপের নতুন ‘কর্মভূমি’ আখ্যা দেন তিনি। বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে বন্দর, পরিবহন-অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন, সড়ক-সেতু-রোপওয়ে, সবুজ সিমেন্ট ও বৃহৎ ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন খাতে ১ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার বেশি (১ লাখ কোটি রুপি) বিনিয়োগ করা হবে।
উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতি রক্ষারও গুরুত্ব দেন আদানি, যার অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কার ও কুমারটুলি ঘাট পুনরুজ্জীবনে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়, পাশাপাশি ‘আদানি পূজো প্রিভিউ’র মাধ্যমে কলকাতার দুর্গাপূজার শিল্প-সংস্কৃতি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার উদ্যোগও নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে আদানি গ্রুপের দীর্ঘদিনের সংযোগ রয়েছে। ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের কেন্দ্র থেকে ২০১৭ সালে হওয়া ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি, যা বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস।
১৯৯৬ সাল থেকে কার্যক্রম চালানো আদানি ফাউন্ডেশন বর্তমানে দেশের ২২টি রাজ্যের ৭ হাজার ২৪৭টি গ্রামে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জীবিকা খাতে কাজ করছে, যার মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ।

Related posts

নির্বাচনে অস্ত্রের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে ‘এআই’ : সিইসি

News Desk

নতুন নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেন থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী

News Desk

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিকের মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোক

News Desk

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: প্যানিক অ্যাটাক-এ হাসপাতালে পরীমণি

News Desk

ইলন মাস্ক -ভবিষ্যতের স্বপ্নদ্রষ্টা নাকি ক্ষমতার ভয়ংকর খেলোয়াড়?

brs@admin

প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলীয় পদে থাকতে পারবেন না : ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত

News Desk
Translate »