বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম অংশগ্রহণেই একের পর এক চমক উপহার দিয়ে চলেছে কেপ ভার্দে। স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেওয়ার পর এবার দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষেও হার মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আফ্রিকার ক্ষুদ্র দেশটি। নাটকীয় এক ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে সমতায় ফিরেছে কেপ ভার্দে।
সোমবার (২২ জুন) ভোরে মায়ামি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল উরুগুয়ে। তবে গোলের দেখা পায় প্রথমে কেপ ভার্দেই। ২১ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে উরুগুয়ের জালে বল জড়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কেভিন পিনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি ছিল কেপ ভার্দের প্রথম গোল।
শুধু তাই নয়, এই গোলটি উরুগুয়ের জন্যও ছিল এক বিরল ঘটনা। বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল হজম করল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তারা সর্বশেষ সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল খেয়েছিল ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকায়, ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে। ১৯ বছর পর আবারও এমন গোল হজম করতে হলো উরুগুয়েকে।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে উরুগুয়ে। সেই প্রচেষ্টার ফল আসে ৪৪ মিনিটে। বক্সে উড়ে আসা বলে দুই দলের খেলোয়াড়ই মাথা ছোঁয়ানোর চেষ্টা করলেও কেউ সফল হননি। বলটি পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। তাতে সমতায় ফেরে উরুগুয়ে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় উরুগুয়ে। সতীর্থের হেড থেকে পাওয়া বল পায়ের টোকায় জালে পাঠিয়ে দেন আগুস্তিন কানোবিও। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় উরুগুয়ে।
মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি জিতে মাঠ ছাড়বে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু কেপ ভার্দে হার মানার পাত্র নয়।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই নায়ক বনে যান হেলিও ভারেলা। সুযোগ বুঝে অনেকটা এগিয়ে থাকা উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফের্নান্দো মুসলেরাকে পরাস্ত করে জালে বল পাঠান তিনি। এটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোল।
গোলের পর সতীর্থদের কাঁধে উঠে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন ভারেলা। অন্যদিকে হতাশায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকেন মুসলেরা ও উরুগুয়ের খেলোয়াড়রা।
স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ গোলরক্ষণ করে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের অন্যতম চমকপ্রদ তারকায় পরিণত হয়েছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক উরুগুয়ের বিপক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এই ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন তার মা, যা ভোজিনিয়ার জন্য ছিল বিশেষ আবেগের মুহূর্ত। ভিসা জটিলতার কারণে স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ড্রয়ের ম্যাচটি তিনি সরাসরি দেখতে পারেননি।
এই ম্যাচটি আরও একটি বিশেষ কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই দলের শুরুর একাদশে থাকা দুই গোলরক্ষকের বয়সই ছিল ৪০ বছরের বেশি।
কেপ ভার্দের ভোজিনিয়া এবং উরুগুয়ের ফের্নান্দো মুসলেরা—দুজনেই অভিজ্ঞতার প্রতীক হয়ে মাঠে নামেন। মুসলেরা বিশ্বকাপে নিজের ১৮তম ম্যাচ খেলেন এবং গত ১৬ জুন তিনি ৪০ বছরে পা রেখেছেন।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের স্বপ্নযাত্রা এখনো থামেনি। বরং প্রতিটি ম্যাচে তারা প্রমাণ করে চলেছে যে ছোট দেশ হলেও বড় মঞ্চে তারা কাউকে ভয় পায় না। স্পেনের পর উরুগুয়েকেও হতাশ করে এখন নকআউট পর্বের পথে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে কেপ ভার্দে।

