ঈদে দর্শকদের জন্য সিয়ামের নতুন রূপ: ‘রাক্ষস’ । পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে ঢালিউডে নতুন সিনেমার হইচই শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। সেই তালিকায় দর্শকদের অন্যতম প্রতীক্ষিত সিনেমা হলো সিয়াম আহমেদের ‘রাক্ষস’। প্রথম পোস্টারেই দর্শক চমকে যান—কালো স্যুটে স্টাইলিশ ভঙ্গিতে বসে আছেন নায়ক, সামনে ছড়িয়ে আছে রক্তাক্ত লাশ।

পরের দিন আসা পোস্টারে দেখা যায় নায়িকা সুস্মিতা চ্যাটার্জিকে, রোমাঞ্চ আর রহস্যের আভাসে সিয়াম তার গলা ধরে রয়েছেন।শুক্রবার মধ্যরাতে মুক্তি পায় ট্রেলার, আর শুরুতেই দর্শকের মন কাঁপিয়ে দেয় সিয়ামের গম্ভীর কণ্ঠে এক দার্শনিক সংলাপ।
কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই শান্ত পরিবেশ বদলে যায় রক্তক্ষয়ী রণক্ষেত্রে, যেখানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একের পর এক লাশ পড়ছে।তবে এই ভয়ংকরতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর প্রেমের গল্প।
ট্রেলারের মাঝখানে দেখা যায় রোম্যান্টিক সিয়াম, নায়িকা সুস্মিতার প্রতি তার প্রেমিক হৃদয় প্রকাশ করে বলছে, “তোর হাসিতে আমি হাসতাম, তোর খুশিতে আমি খুশি হইতাম, তোর কষ্টে আমি কানতাম।” বিলাসবহুল জীবন, রোম্যান্টিক মুহূর্ত আর সি-প্লেন ভ্রমণ-সব মিলিয়ে ট্রেলারের এই অংশে রাক্ষসের মানবিক দিক ফুটে উঠেছে।

কিন্তু শান্তি দীর্ঘস্থায়ী নয়। মুহূর্তের মধ্যেই ফিরে আসে চরম অ্যাকশন, গোলাগুলি, বিস্ফোরণ এবং রক্তক্ষয়ী উত্তেজনা। জিপ গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে শত্রুদের উদ্দেশে সিয়ামের হুংকার —‘তুই যদি ওদের বাপ হোস, তাইলে আমি তোর বাপেরও বাপ!’ তার চিৎকার আর রক্তে ভেজা দৃশ্য দর্শকের রোমাঞ্চ বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুন।

ট্রেলারের শেষে দেখা যায় সিয়াম ও সুস্মিতাকে চিকিৎসকের চেম্বারে, যেখানে তার সাহসী ও ডার্ক কমেডি সংলাপ সিনেমার ভিন্ন দিকও তুলে ধরে। নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয় জানিয়েছেন, ‘বরবাদ’-এর চেয়েও তিনগুণ বেশি ভায়োলেন্স থাকবে ‘রাক্ষস’-এ। আগের জনপ্রিয় চরিত্র জিল্লু-কেও ট্রিজারে দেখা গেছে, যা দর্শকদের জন্য রোমাঞ্চ আরও বাড়িয়ে দেয়।
‘রাক্ষস’-এর মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক করছেন কলকাতার সুস্মিতা চ্যাটার্জি। আজিম হারুন ও রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত এই সিনেমা ঈদুল ফিতরে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা উপহার দেবে।

