রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিশ্বজুড়েই মূল্যছাড়! রমজান মাস মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির সময় হলেও, এই সময়ে বাজারেও লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন আসে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর বিশেষ ছাড় ঘোষণা করে ক্রেতাদের স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
-
সৌদি আরব:

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকার বাজার মনিটরিং করে। অযথা দাম বাড়ালে জরিমানা আরোপ করা হয়। সুপারমার্কেট ও কাঁচাবাজারে ২–৩ রিয়াল পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে ১২ হাজারের বেশি আইটেমে সর্বোচ্চ ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় ঘোষণা করা হয়। প্রবাসীরাও বলেন, রমজানে দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ের মধ্যে রাখা হয়।
-
কাতার:

৮০০টিরও বেশি পণ্যের দাম কমানো হয়। দুধ, ঘি, পনির, হিমায়িত সবজি, রান্নার তেল, বাদাম, ফলের রস, ব্রয়লার মুরগি, রুটি ও টিনজাত খাবারে ছাড় থাকে। বিশেষভাবে ২৫ ধরনের খেজুরে আলাদা মূল্যছাড় রয়েছে।
-
আরব আমিরাত:

রমজানের এক মাস আগে থেকেই বিশেষ ছাড় শুরু হয়। ছয় হাজারের বেশি পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। অনলাইনেও ছাড়ের সুবিধা থাকে। রান্নার তেল, আটা, চালের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়। গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ পুরস্কার, দাতব্য খাবারের ঝুড়ি ও গিফট কার্ডের ব্যবস্থা থাকে।
-
কুয়েত:

সুপার মার্কেট, লুলু হাইপার, সিটি সেন্টারসহ সব দোকানে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও ফলসহ নিত্যপণ্যে বিশেষ ছাড় থাকে। সরকারি তদারকি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত মূল্য বা ভেজাল পণ্যের বিক্রি না হয়।
-
মিশর:

কায়রোতে সপ্তাহব্যাপী খাদ্যমেলার আয়োজন হয়। রান্নার তেল, চাল, পাস্তা, মাংস, শাকসবজি, ফল ও বাদামে বিভিন্ন ছাড় থাকে। সরকারি তত্ত্বাবধানে দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার পর্যবেক্ষণ করা হয়।
-
মালয়েশিয়া:

খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি পোশাক, প্রসাধনী ও কাঁচামালসহ সব ধরনের পণ্যে ছাড় দেওয়া হয়। লুলু, মাইডিন, এনেস্কে ও এয়নবিগের মতো সুপারশপে বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়
-
ওমান:

শপিংমলগুলো রমজানে ২০–৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে গ্রাহক আকৃষ্ট করে। সরকারি নজরদারি ও বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করে, কোনো ব্যবসায়ী নিয়ম অমান্য করতে না পারে।
-
অন্যান্য দেশ:
ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য রমজানে বিশেষ ছাড় থাকে। থাইল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও পণ্যের ওপর মূল্যছাড় দেওয়া হয়।
রমজান মাসে মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশে নিত্যপণ্যের ওপর বিশেষ ছাড়ের মাধ্যমে ক্রেতারা অর্থনৈতিক সুবিধা পান। সরকারের তদারকি, বাজার মনিটরিং ও ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা এই প্রক্রিয়াকে কার্যকর করে। এছাড়া এটি সামাজিক ও ধর্মীয় সহমর্মিতারও প্রকাশ।

