বাংলাদেশজুড়ে নানা বিতর্কের পর সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে সরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ দল। টাইগারদের অনুপস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড, আর তাদের নিয়েই ৭ ফেব্রুয়ারি পর্দা ওঠে আসরের। যে বিশ্বকাপ ঘিরে দেশে এত আলোচনা-সমালোচনা ছিল, ইতোমধ্যে তার গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচও শেষ হয়ে গেছে।
২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে রাউন্ড অব এইট বা সুপার এইট পর্ব। দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে ৪টি করে দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই পর্ব। বিশ্বকাপের আগে সম্ভাব্য সুপার এইট নিয়ে যে পূর্বাভাস ছিল, বাস্তবে সেখানে দেখা গেছে বেশ কিছু অঘটন। আইসিসি ইভেন্টের অন্যতম সফল দল অস্ট্রেলিয়াই এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েট দলগুলোর পারফরম্যান্সও ছিল চোখে পড়ার মতো।

বাংলাদেশ খেললে তাদের অবস্থান হতো গ্রুপ সিতে। ড্র অনুযায়ী এই গ্রুপেই ছিল টাইগারদের নাম, যেখানে শেষ মুহূর্তে তাদের পরিবর্তে যোগ দেয় স্কটল্যান্ড। আইসিসির ডাকে দ্রুত সাড়া দিয়েই আসরে অংশ নেয় তারা। গ্রুপ সি থেকে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড। নিজেদের চার ম্যাচের চারটিতেই জিতে দাপটের সঙ্গে গ্রুপ সেরা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে বাকি ম্যাচগুলো জিতে রানারআপ হয়ে পরের পর্বে উঠেছে ইংল্যান্ড।


অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি হেড টু হেড রেকর্ডও বেশ চমক জাগানিয়া। চার ম্যাচের তিনটিতেই জয় বাংলাদেশের, ইংল্যান্ড জিতেছে মাত্র একবার। চলতি বিশ্বকাপেও নেপালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে ম্যাচ বাঁচিয়ে জয় পায় ইংল্যান্ড, যেখানে এক পর্যায়ে শেষ ৭ বলে নেপালের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০ রান। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও সহজ জয় পায়নি তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩০ রানে হার এবং ইতালির বিপক্ষে ২০৩ রানের লক্ষ্য রক্ষা করতে গিয়েও বোলারদের ভোগান্তি দলটির অনিয়মিত পারফরম্যান্সেরই ইঙ্গিত দেয়।
উপমহাদেশের উইকেটে যেকোনো দলের বিপক্ষেই লড়াই করার সামর্থ্য রাখে বাংলাদেশ। সেই বিবেচনায় অফফর্মে থাকা ইংল্যান্ড এবং পরিসংখ্যানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অন্তত একটি ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যেত না। তিন ম্যাচ জিতলেই হয়তো সুপার এইটে জায়গা করে নিতে পারত টাইগাররা। আবার একটি বড় ম্যাচ জিতেও মিলতে পারত কাঙ্ক্ষিত টিকিট।

