নেপালের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, দেশটির ‘জেন-জি’ আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে বিভিন্ন কারাগার থেকে পালানো সব বন্দি যদি ফিরে না আসে, তবে বিশেষ নিরাপত্তা অভিযানের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
কারাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক চমেন্দ্র ন্যুপানের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত পর্যন্তও ১১ হাজার বন্দি পলাতক রয়েছেন।
নেপালের কারা ব্যবস্থাপনা বিভাগ শুক্রবারের মধ্যে জেল পলাতকদের ফিরে আসার আহ্বান জানালে তখন কিছু বন্দি ফিরতে শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে আরো কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে।
তবে গত কয়েকদিনে যারা পালিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই এখনো কারাগার ও কিশোর সংশোধনাগারে ফিরে আসেননি।
কারাগারে ফেরানোর উদ্যোগ
কারা ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক ন্যুপানে বলেছেন, “যে সব অপরাধীরা ফিরতে চাচ্ছে না তাদেরকে শিগগিরই আটক করা হবে”।
তিনি আরও বলেন, “এর জন্য আমরা ইতিমধ্যে বন্দিদের একটি তালিকা পুলিশ সদর দফতরে এবং অভিবাসন দপ্তরেও পাঠিয়েছি, যাতে তারা পালাতে না পারে। সীমান্ত থেকেও তাদের আটক ও ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
কর্মকর্তারা জানান, ভারত-নেপালের উন্মুক্ত সীমান্ত থাকায় এ ধরনের বন্দিদের দেশ ছেড়ে পালানোর ঝুঁকির কারণেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিভাগটি আরও জানিয়েছে, জেল পালানো কেউ যদি পালিয়ে কোনো এলাকায় থাকে, তাহলে স্থানীয় জনসাধারণকে তা কারা কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। একই সাথে গণমাধ্যমের সহায়তায় বন্দিদের বারবার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মহাপরিচালক ন্যুপানে বলছিলেন, “কিছু বন্দি নিজেরাই ফিরতে চাচ্ছেন। নিরাপত্তা অভিযান ছাড়াও পুলিশ আলাদাভাবে পলাতক অপরাধীদের খুঁজে বের করার একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলেও জানান কারা মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, “প্রতিটি থানাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ সেই অনুযায়ী কাজ করছে”।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সারা দেশে একটি অভিযান পরিচালনা করবো। যাতে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের খুঁজে বের করা যায়”।
তবে তিনি এটিও জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র কারাগার থেকে আটকদেরই এই নিরাপত্তা অভিযানে আটক করা হবে না, অন্য অপরাধে অভিযুক্তদেরও আটক করা হবে এ অভিযানে। এ বিষয়ে সাধারণ জনগণকেও সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
কারা মহাপরিচালক সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, “জেল পালানো অনেক বন্দিরই আচরণ সংশোধন হয়নি। যে কারণে তারা আরো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে”।
“এটা ঠেকাতে আমাদের অবশ্যই একটি সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। খোঁজ নিতে হবে এবং তাদের ফিরিয়ে আনতে জোর আহ্বান জানানো হবে” যোগ করেন ন্যুপানে।
তিনি আরো বলেন, “বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে যে পালানো কিছু বন্দি দেশের নানা প্রান্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়েছে”।
যে কারণে তাদের এসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান কারা অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।
একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জানিয়েছে, নেপালের এই জেন জি’ আন্দোলনের সময় পুলিশ ফাঁড়ি, থানা জেলা সদরে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
বিআরএসটি / জেডএইচআর

