দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ সুদানের রাষ্ট্রপতি সালভা কিরের সামরিক সমর্থক উগান্ডা। চলতি বছরের মার্চে উগান্ডা আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ সুদানে বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত, কিরের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী রিক মাচার এবং তার জাতিগত নুয়ের সম্প্রদায়ের মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সোমবার (২৮ জুলাই) সংঘর্ষ বাঁধে উগান্ডার পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস ও দক্ষিণ সুদানের সরকারি সেনাদের একটি স্থানীয় ইউনিটের মধ্যে।
ঘটনাটি ঘটে দুই দেশের সীমান্তবর্তী সেন্ট্রাল ইকুয়েটোরিয়া রাজ্যের কাজো কেজি কাউন্টিতে। গতকাল মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জুবা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
দক্ষিণ সুদানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুইটি বন্ধুসুলভ দেশ—দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডার সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়েছে। সংঘর্ষের জেরে উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, দক্ষিণ সুদানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ইতিমধ্যে উগান্ডার প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, সংঘর্ষ থামাতে এবং ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে যৌথ তদন্ত শুরু করতে। কাজো কেজি কাউন্টির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ফলে শত শত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন ঝোপঝাড়, ধর্মীয় স্থান বা স্থানীয় স্কুলে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র দুই বছর পর, দক্ষিণ সুদানে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ।
কির ও রিক মাচারের নেতৃত্বে পাঁচ বছর ধরে চলা সংঘর্ষে প্রায় ৪ লাখ মানুষ প্রাণ হারান। ২০১৮ সালে একটি ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হলেও, সম্প্রতি কিরের মাচারকে বাইরে রাখার নানা পদক্ষেপ সেই চুক্তিকে ফের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এতে করে নতুন করে জাতিগত সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে, উত্তর-পূর্ব দক্ষিণ সুদানে নুয়ের মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র, বিশেষ করে দাহ্য তরলসহ ব্যারেল বোমা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে উগান্ডার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। যদিও উগান্ডা সরকার এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।
সূত্র : ডন
বিআরএসটি / জেডএইচআর

