32.4 C
Bangladesh
Thursday, July 16, 2026
BRS TIMES
অন্যান্য সংবাদজাতীয়প্রচ্ছদ

বাংলাদেশে মানবাধিকার মিশন স্থাপনে সরকার ও জাতিসংঘের সমঝোতা

বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)-এর মধ্যে মানবাধিকার মিশন স্থাপন সংক্রান্ত তিন বছরের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এই মিশনের লক্ষ্য হবে দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে শনিবার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়াই হবে মানবাধিকার মিশনের মূল উদ্দেশ্য।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে বাংলাদেশকে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। আর সেজন্য দক্ষতা, আইনগত সহায়তা এবং প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে মিশন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে জবাবদিহি ও সংস্কার প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক অঙ্গীকার হিসেবেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আমরা জানি, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশে কিছু গোষ্ঠী উদ্বেগ জানিয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সংস্কৃতি ও দৃঢ় ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেকোনো আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে এই মূল্যবোধগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে বলে মত দিয়েছেন নাগরিকরাও।

সেই প্রেক্ষাপটে, ওএইচসিএইচআর-এর মিশন কেবল গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিরোধ ও ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে জোর দেবে। বিশেষত পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে। এই মিশন দেশের আইনি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর বাইরে কোনো সামাজিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আশা করি, মিশন সবসময় স্বচ্ছতা বজায় রাখবে এবং স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে সমন্বয় করে কাজ করবে। জাতিসংঘ বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বাস্তবতাকে পুরোপুরি সম্মান জানিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সরকার স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে, জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে সার্বভৌম কর্তৃত্ব অনুযায়ী যেকোনো সময় এই চুক্তি থেকে সরে আসতে পারবে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, যদি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সময় এমন একটি কার্যালয় থাকত, তাহলে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও প্রকাশ্যে গণহত্যার মত অনেক অপরাধ সঠিকভাবে তদন্ত, নথিভুক্ত ও বিচারের আওতায় আনা যেত।

শেষে বলা হয়, মানবাধিকারের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার আদর্শে নয়, ন্যায়ের ভিত্তিতে হতে হবে।

বাংলাদেশ সরকার এই অংশীদারিত্বকে একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে। যার মাধ্যমে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী হবে এবং আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় সক্ষমতা বাড়বে। এটি আমাদের মূল্যবোধ, আইন এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
বিআরএসটি/এসএস

Related posts

সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনে সেনাবাহিনীকে এগিয়ে আসতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

brs@admin

একটি ছাত্র সংগঠন ডাকসু নির্বাচন বানচালে কাজ করছে : ইয়ামিন মোল্লা

News Desk

লালমোহনে মা ইলিশ সংরক্ষণে টাস্কফোর্স কমিটির সভা

News Desk

তারা গণতন্ত্রের শত্রু : সালাহউদ্দিন আহমেদ

News Desk

ইরানকে ‘ধন্যবাদ’ জানালেন ট্রাম্প

News Desk

প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি

News Desk
Translate »