অবশেষে মুখ খুললেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পেছনে ইরান যুদ্ধের আংশিক দায় রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা এই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই।
চাপে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ
মঙ্গলবার রাতে টেলিফোনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, খারাপ ফলের পেছনে ইরান যুদ্ধের কোনো ভূমিকা ছিল কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধও এর একটি কারণ।’ এই নির্বাচনে তাঁর দল কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।
ট্রাম্প জানান, ইরান যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তের পেছনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বড় ভূমিকা ছিল। হেগসেথকে এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবেও বর্ণনা করেছেন তিনি। গত ২৩ মার্চ ট্রাম্প বলেছিলেন, হেগসেথই প্রথম যুদ্ধের কথা তুলেছিলেন; তাঁর যুক্তি ছিল, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া যায় না।
বিপর্যয়ের পর হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়া হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমার মনে হয়, তিনি খুব ভালো কাজ করছেন।’ প্রতিরক্ষা দপ্তরও জানিয়েছে, ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত পেন্টাগনের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে হেগসেথ শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা বলেছেন, হেগসেথকে সরানোর বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘এই যুদ্ধের জন্য কাউকে না কাউকে দায় নিতে হবে। আর আপনারা জানেন, সেই দায় ট্রাম্প কখনো নেবেন না।’ রিপাবলিকান সিনেটর টম টিলিসও বলেছেন, হেগসেথকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
এমন পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রে আগেও দেখা গেছে। ২০০৬ সালে ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষে মধ্যবর্তী নির্বাচনে উভয় কক্ষ হারিয়েছিল রিপাবলিকানরা। ভোটের পরদিন সকালেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডকে বরখাস্ত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। এবার ভোটের পরদিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, ইরান যুদ্ধ আদৌ সার্থক ছিল কি না।




