যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির জন্য সরাসরি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি লিখেছেন, রিপাবলিকানদের হারের মূল কারণ ইরান যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে একথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।
ভোটাররা মুখ ফিরিয়েছেন যেভাবে
ভ্যান্সের মতে, পরাজয়ের কারণ ভোটার উপস্থিতি কম হওয়া নয়। রিপাবলিকান ভোটাররা ভোট দিতে এসেছিলেন। আসল সংকট হলো, ২০২৪ সালে যারা ট্রাম্প ও তাঁকে ভোট দিয়েছিলেন, এবার তাদের অনেকেই ক্ষোভে ডেমোক্র্যাটদের বেছে নিয়েছেন।
তিনি জানান, তাঁর আস্থাভাজন এক জরিপকারী ভোটের আগের দিনই কংগ্রেসের ভোটে রিপাবলিকানদের ১৩ পয়েন্টে হারের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। দলবদল করা ভোটাররা ফিরে আসার শর্ত হিসেবে চারটি বিষয় সামনে এনেছেন: যুদ্ধের অবসান, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিতে মনোযোগ, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন।
আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মূল্য দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে দলকে খোলামেলা আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন ভ্যান্স। কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কথা বলায় সমালোচিত ফক্স নিউজের উপস্থাপক র্যাচেল ক্যাম্পোস-ডাফির পাশেও দাঁড়িয়েছেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান অভিযান চার-পাঁচ সপ্তাহে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা এখন নবম মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে; এ পর্যন্ত ২৩ জন মার্কিন সেনা নিহত ও ৮৬৫ জন আহত হয়েছেন।
গত বসন্তে ভ্যান্স নিজেই তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় মার্কিন দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা পরে ভেস্তে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে নিজেকে এগিয়ে রাখতেই অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ থেকে দূরত্ব তৈরি করছেন তিনি।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজয়ে যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেও নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেছেন। তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দিতে এই অভিযান জরুরি ছিল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ তখনই শেষ হবে, যখন আমি বলব এটা শেষ।




