বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় পানগুছি নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বহু বসতভিটা ও আবাদি জমি। ঘরবাড়ি হারিয়ে শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পানগুছি নদীর তীব্র ভাঙনে গত কয়েক দিনে নতুন নতুন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বসতবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে কিংবা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নদীপারের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। কখন বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।
ঝুঁকিতে জনপদ ও যোগাযোগব্যবস্থা
মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী থেকে পঞ্চকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
স্থায়ী সমাধানের দাবি
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং তাঁদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে পানগুছি নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে নদীতীরবর্তী আরও বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।




