ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার খবরে আলোচনায় এসেছেন ডানপন্থী রাজনীতিক ফ্লাভিও বলসোনারো। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকার মধ্যেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁর দেশত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নথি নেই বলে জানিয়েছেন ব্রাজিলের এক পুলিশ কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ফ্লাভিও বলসোনারো ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা দেওয়া হবে। তবে এর আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন বলে সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্ট পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
কারাবন্দি সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। তবে নির্বাচনে হার মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।
৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও সোমবার জানান, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি তাঁকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে তিনি সংসদীয় দায়মুক্তিও হারাতে যাচ্ছেন।
ব্রাজিলের এক পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ফ্লাভিওর ব্রাজিলীয় ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্লাভিওর দেশত্যাগের কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নেই। তবে এএফপির দেখা ইতালির একটি সংসদীয় নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে তাঁর ইতালীয় নাগরিকত্ব রয়েছে।
ফ্লাভিওর দেশত্যাগের খবর তাঁর নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক রজেরিও মারিনহোকেও বিস্মিত করেছে। মঙ্গলবার রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ফ্লাভিও কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই। সকালে ফ্লাভিওর কাছ থেকে একটি খুদে বার্তা পেলেও এরপর আর যোগাযোগ হয়নি বলে জানান তিনি।
এদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেশ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট লুলা। ব্রাসিলিয়ায় নিজের ৮১তম জন্মদিন উদযাপনের সময় তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিজের দেশ থেকে লুকিয়ে চলে যান, তাঁর নিশ্চয়ই কিছু লুকানোর আছে।
এর আগে সোমবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ফ্লাভিও বলেছিলেন, ব্রাজিল ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তাঁকে ভয় দেখানোর কৌশল। দেশ ছাড়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
ফ্লাভিওর ভাই এডুয়ার্ডো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সাবেক আইনপ্রণেতা এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পডকাস্টে এডুয়ার্ডো বলেছিলেন, চলমান তদন্তের কারণে নির্বাচনে হেরে গেলে ফ্লাভিওর ব্রাজিল ছেড়ে যাওয়া উচিত।




