পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রথমে বাদী ও পরে সাক্ষী হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহে গার্ড অব অনার প্রদান ও দাফন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, গার্ড অব অনার প্রদান নিয়ে জটিলতার কারণে তাঁদের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্যে বিস্তারিত জানা যায়নি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সের ভেতরে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। রাত ৮টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মরদেহ পুলিশ লাইন্সে রাখা ছিল। দাফনের বিষয়ে তখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
পরিবারের দাবি, তিনি একজন গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মানিক পশারী বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে পিরোজপুরে আসেন। পরিবারের দাবি, দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়ার পর গার্ড অব অনার প্রদান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ সময় জামায়াতের নেতারা বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইন্সে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেন বলেন, সকাল ১০টার দিকে তিনি মারা যান। দুপুর ১২টার দিকে আমরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গেলে গার্ড অব অনারের কথা বলা হয়। কিন্তু আমাদের বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।
একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে বরফ ছাড়াই কয়েক ঘণ্টা রাখতে হয়েছে। গার্ড অব অনার দেওয়ার পর মরদেহ দাফনের বিষয়ে প্রশাসন আমাদের কোনো দায়িত্ব নেয়নি। আমরা দাফন নিয়ে খুবই চিন্তিত। অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, মানিক পশারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া বা পিরোজপুরে দাফন করতে দেওয়া উচিত নয়।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীমও জানান, মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং দাফন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।




