পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জমি বিক্রি করে ক্রেতাদের দখল বুঝিয়ে না দেওয়া এবং উল্টো হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে মো. মানিক মাতুব্বর (৫৮) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জমির দখল চাওয়ায় ক্রেতা ও তাঁদের স্বজনদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টায় পিরোজপুর সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মো. ইদ্রিস হোসেন (৪০)। লিখিত বক্তব্যে তিনি জমি বুঝে পাওয়া এবং মামলা-হয়রানি থেকে মুক্তির দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে ইদ্রিস হোসেন জানান, মঠবাড়িয়া উপজেলার ৪ নম্বর দাউদখালী ইউনিয়নের পাঠাকাটা গ্রামের বাসিন্দা মৃত কাসেম আলী মাতুব্বরের ছেলে মানিক মাতুব্বর বিভিন্ন সময়ে সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে একই বংশের সুলতান মাতুব্বর ও তাঁর ওয়ারিশদের কাছে মোট ৯৫ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। বিক্রি করা জমির মধ্যে ৩০.৭৫, ৩৩, ১৫, ৭, ৭ ও ৩.৫ শতাংশের ছয়টি পৃথক নিবন্ধিত দলিল রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ইদ্রিস হোসেনের অভিযোগ, জমির সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হলেও ক্রেতাদের এখন পর্যন্ত জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। দখল চাইতে গেলে মানিক মাতুব্বর তাঁদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেন এবং ক্রেতা ও তাঁদের স্বজনদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করে হয়রানি করছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মঠবাড়িয়া থানা ও স্থানীয় আদালতে এমপি-২৪/২০১৪, এমপি-১৩০/২০১৫, এমপি-২৭৩/২০১৫, ৭ ধারা ২৭৩/২০২৫ ও ৮৯/২০২৬-সহ একাধিক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলাকে হয়রানিমূলক বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
তাঁরা আরও জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলালের কাছে আবেদন করা হলে তিনি তদন্তের জন্য মঠবাড়িয়া সার্কেল এসপিকে নির্দেশ দেন। বর্তমানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ৫ অক্টোবর মানিক মাতুব্বর মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার চালিয়েছেন। এতে তাঁদের সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে ক্রয়কৃত জমির দখল বুঝে পাওয়া এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), পিরোজপুরের পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. মানিক মাতুব্বরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।




