27.2 C
Bangladesh
Tuesday, September 1, 2026
BRS TIMES
মেসির অবসর - ২০০৭ এর ছেলে থেকে ২০২৬ এর কিংবদন্তি হওয়ার গল্প
খেলাধূলাপ্রচ্ছদ

মেসির অবসর – ২০০৭ এর ছেলে থেকে ২০২৬ এর কিংবদন্তি হওয়ার গল্প

একজন তরুণ এসেছিলেন আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে। চোখে ছিল স্বপ্ন, পায়ে ছিল জাদু। তখনও কেউ জানত না, সেই ছোট্ট গড়নের ছেলেটিই একদিন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রতীক হয়ে উঠবেন। মেসির অবসর , আজকের বিশেষ আয়োজন । শেষ হলো এক যুগ , বিদায় নিলেন এক কিংবদন্তি।

২০০৭ এর সেই মেসি আর ২০২৬ এর মেসি , মাঝখানে কেটে গেছে প্রায় দুই দশক। এই সময়ে বদলেছে ফুটবল, বদলেছে আর্জেন্টিনা, বদলেছে মেসিও। কিন্তু বদলায়নি জাতীয় দলের জার্সির প্রতি তাঁর টান।

এবার সেই অধ্যায়েরই সমাপ্তি টানলেন লিওনেল মেসি।

অবশেষে বিদায় বললেন মেসি

৩৯ বছর বয়সে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মেসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাতে লেখা একটি বার্তার ছবি প্রকাশ করে তিনি জানান, দীর্ঘ চিন্তার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, সিদ্ধান্তটি কষ্টের হলেও তিনি মনে করেন , এটাই সঠিক সময়।

মেসি জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের দুই দিন পর, ২১ জুলাই, তিনি এই কথাগুলো লিখেছিলেন। পরে তাঁর বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর সিদ্ধান্তটি আরও দৃঢ় হয়।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। সেটিই হয়ে থাকল জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ।

২০০৭: যে ছেলেটি শুধু স্বপ্ন দেখতেন

মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের শুরুটা সহজ ছিল না। জাতীয় দলে নিজের জায়গা তৈরি করার পাশাপাশি তাঁকে প্রতিনিয়ত তুলনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে একের পর এক সাফল্য এলেও জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি।

২০০৬ বিশ্বকাপে সীমিত সুযোগ পাওয়ার পর ধীরে ধীরে আর্জেন্টিনার আক্রমণের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।

তারপর শুরু হয় অপেক্ষা।

ট্রফির অপেক্ষা।

স্বীকৃতির অপেক্ষা।

আর নিজের দেশের মানুষের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার অপেক্ষা।

২০১৪: স্বপ্নের খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থতা

২০১৪ বিশ্বকাপে মেসি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন। জার্মানির বিপক্ষে সেই ফাইনালে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে হারতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

মেসি গোল্ডেন বল জিতেছিলেন, কিন্তু হাতে ওঠেনি বিশ্বকাপ।

এরপর আরও হতাশা আসে।

২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হার। ২০১৬ সালের পর তো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি।

কিন্তু সেই বিদায় স্থায়ী হয়নি।

তিনি ফিরে এসেছিলেন।আর সেই প্রত্যাবর্তনের পরই বদলে যেতে থাকে গল্প।

২০২১: অপেক্ষার অবসান

বছরের পর বছর আর্জেন্টিনার হয়ে ফাইনালে উঠে ট্রফি না জেতার যন্ত্রণা অবশেষে শেষ হয় ২০২১ কোপা আমেরিকায়।ব্রাজিলের মাটিতে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। মেসির হাতে ওঠে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি।

যে মানুষটিকে এতদিন বলা হতো, “জাতীয় দলের হয়ে কিছু জিততে পারেননি” সেই মেসির গল্প তখন নতুন মোড় নেয়।

২০২২: অসম্পূর্ণ গল্পের পূর্ণতা

তারপর এলো কাতার।

২০২২ বিশ্বকাপে মেসি শুধু আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্বই দেননি, নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্নও পূরণ করেন। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে দুই গোল করেন মেসি। ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত জয় পায়। ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার ঘরে ফেরে।

মেসির হাতে ওঠে সেই ট্রফি, যার জন্য তাঁর ক্যারিয়ারজুড়ে অপেক্ষা ছিল। সেই মুহূর্তে ২০১৪ এর ফাইনাল, ২০১৫-১৬ এর হতাশা , সব যেন অন্য অর্থ পায়।

২০২৪: আরও একটি শিরোপা

বিশ্বকাপ জয়ের পরও থামেননি মেসি। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় আবারও চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। ফলে জাতীয় দলের হয়ে মেসির ট্রফির তালিকায় যোগ হয় আরও একটি বড় শিরোপা।

একসময় যে মেসির জাতীয় দলের ক্যারিয়ারকে ব্যর্থ বলা হতো, সেই ক্যারিয়ারই পরিণত হয় সাফল্যের অসাধারণ গল্পে।

২০২৬: শেষ ম্যাচ, শেষ অধ্যায়

২০২৬ বিশ্বকাপ ছিল মেসির ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনা আবারও ফাইনালে ওঠে। কিন্তু এবার শেষ হাসি হাসতে পারেনি তারা।স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শেষ হয় আর্জেন্টিনার। মেসিও শেষ করেন তাঁর জাতীয় দলের অধ্যায়।

তবে এবার গল্পটা কোনো ব্যর্থতার গল্প নয়। কারণ শেষ ম্যাচে ট্রফি না পেলেও তার অনেক আগেই মেসি নিজের উত্তরাধিকার তৈরি করে ফেলেছেন।

সংখ্যায় মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি খেলেছেন ২০৭ ম্যাচ এবং করেছেন ১২৫ গোল, দুটিই দেশটির পুরুষ ফুটবলে রেকর্ড।

তাঁর বড় আন্তর্জাতিক অর্জনের তালিকায় রয়েছে :

  • ২০২১ কোপা আমেরিকা
  • ২০২২ ফাইনালিসিমা
  • ২০২২ বিশ্বকাপ
  • ২০২৪ কোপা আমেরিকা

এর আগে বয়সভিত্তিক পর্যায়েও আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিক স্বর্ণপদক জিতেছিলেন তিনি।

২০০৭ এর ছেলেটি আর ২০২৬ এর কিংবদন্তি

২০০৭ এর মেসির কাছে জাতীয় দল ছিল নিজেকে প্রমাণ করার জায়গা। ২০২৬ এর মেসির কাছে জাতীয় দল হয়ে উঠেছে তাঁর জীবনের সবচেয়ে আবেগের একটি অংশ।

একসময় তাঁকে প্রশ্ন করা হতো ,

“মেসি কি আর্জেন্টিনার হয়ে পারবেন?”

আজ সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে কোনো শব্দের প্রয়োজন নেই।

একটি বিশ্বকাপ।

দুটি কোপা আমেরিকা।

শতাধিক গোল।

দুই শতাধিক ম্যাচ।

আর একটি পুরো প্রজন্মের স্মৃতি।

মেসি কি সত্যিই বিদায় নিলেন?

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি , মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন, পুরো পেশাদার ফুটবল থেকে নয়।

তিনি এখনো ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন। অর্থাৎ ফুটবল থেকে মেসির বিদায় এখনই নয়। তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর তাঁকে মাঠে দেখা যাবে না , এই বাস্তবতাটিই হয়তো সবচেয়ে কঠিন।

শেষ কথা

২০০৭ সালে একজন ছেলে জাতীয় দলে ঢুকেছিল।

  • তারপর সে হেরেছে।
  • কেঁদেছে।
  • সমালোচিত হয়েছে।
  • অবসর নিয়েছে।
  • আবার ফিরে এসেছে।
  • ট্রফি জিতেছে।
  • বিশ্বকাপ জিতেছে।
  • আর শেষ পর্যন্ত এমন একটি উত্তরাধিকার রেখে গেছে, যা মুছে ফেলা সহজ নয়।

২০২৬ সালে যখন মেসি আর্জেন্টিনার জার্সি খুলে রাখলেন, তখন শুধু একজন ফুটবলার বিদায় নিলেন না।

শেষ হলো একটি যুগ ………………

একজন ছেলে জাতীয় দলে ঢুকেছিল।

একজন কিংবদন্তি বেরিয়ে গেলেন …………………………..

ধন্যবাদ, লিও।

Related posts

ভারতের পোশাক রপ্তানি খাতে ধাক্কা : অর্ডার স্থগিত করছে মার্কিন ক্রেতারা

News Desk

নারায়ণগঞ্জে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করলেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা

brs@admin

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন

News Desk

হাসিনার বিচার ছাড়া নির্বাচন উৎসবমুখর হবে না : শাহজাহান

News Desk

পিরোজপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে

brs@admin

তজুমদ্দিনে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ

News Desk
Translate »