হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের ফি নেওয়ার সুযোগ রেখে একটি প্রস্তাবিত আইনে অনুমোদন দিয়েছে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটি।
রোববার (২৩ আগস্ট) প্রস্তাবিত আইনটির সংশ্লিষ্ট একটি ধারা অনুমোদন করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ও তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে জাহাজ চলাচল, পরিবেশগত সেবা, বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, বিমা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবার জন্য ফি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কমিটির মুখপাত্র হাসান কাশকাভি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাওয়া দেশগুলোর জাহাজ থেকে এসব ফি নেওয়া হবে। ফি ইরানি মুদ্রা রিয়াল অথবা তেহরান নির্ধারিত অন্য কোনো মুদ্রায় পরিশোধ করতে হতে পারে।
তবে এখনো এটি চূড়ান্ত আইন নয়। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হতে হলে পার্লামেন্টে আরও আলোচনা ও ভোটাভুটির পাশাপাশি গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
ইরানের দাবি, প্রস্তাবিত আইনে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অধিকার সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ এই নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে প্রণালিটি ঘিরে ইরানের যেকোনো নতুন সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের এই উদ্যোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও এর ওপর আরোপিত যেকোনো বিধিনিষেধ তেল সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
প্রস্তাবিত আইনটি পার্লামেন্টে পাস হলে তা গার্ডিয়ান কাউন্সিলে পাঠানো হবে। কাউন্সিল আইনটি সংবিধান ও ইসলামি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পর্যালোচনা করবে। কোনো আপত্তি থাকলে বিলটি আবার পার্লামেন্টে ফেরত পাঠানো হতে পারে।



