রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটক দুজনের নাম সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ বলে জানা গেছে। তাদের বাড়ি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শনিবার রাতে হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই মাছুয়াপাড়ায় অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে স্থানীয় দুই যুবককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনাস্থলে ইয়াবা সেবনের আলামত পাওয়ার কথাও জানিয়েছে একটি সূত্র। স্থানীয় কয়েকজন যুবক এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে সন্দেহভাজন দুজনকে আটকের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ। এ ঘটনায় রোববার দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দুইতলা বাড়িটিতে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। গণপতির মরদেহ বাড়ির ছাদে, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়িতে এবং ছেলে প্রিয়মের মরদেহ শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে রোববার ভোরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। পাশাপাশি টাকা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলোও ভাঙা ছিল। এ কারণে লুটপাটের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশের একাধিক ইউনিটসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা কাজ করছে। কেউ আটক হয়ে থাকলেও থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে চারজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয়। বাড়ির বিভিন্ন অংশ তছনছের চিত্র দেখে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। একই সঙ্গে মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ ও র্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।




