ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পূজা চেরি সাধারণত সিনেমা নিয়েই আলোচনায় থাকেন। তবে এরই মধ্যে কয়েকবার তার প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। প্রযোজক, পরিচালক কিংবা নায়কের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নানা সময় নানা আলোচনা হয়েছে। এবার সেই গুঞ্জন গড়িয়েছে বিয়ের খবরে।
সম্প্রতি গুঞ্জন ছড়ায়, দেশের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে গোপনে বিয়ে করেছেন পূজা চেরি। এমনকি বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়ায়। বিষয়টি নজরে আসার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি এসব খবরকে ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন পূজা চেরি।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমার বিয়ে এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একের পর এক ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। কখনো অমুক পেশার কারও সঙ্গে, কখনো অন্য কারও সঙ্গে নাম জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিউজ করা হচ্ছে—যা অত্যন্ত বিব্রতকর এবং দুঃখজনক।’
পূজা আরও লিখেছেন, ‘আমি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছিলাম—আমি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবেই আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। আমি এটাও নিশ্চিত করেছিলাম যে, যখনই আমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে, আমি নিজেই তা প্রকাশ্যে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে সবাইকে জানাব। লুকানোর কিছু নেই।’
নিজের বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে নিজেকে কিছুটা সময় দিচ্ছেন এবং নতুন কাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ কারণেই ক্যামেরার সামনে তার উপস্থিতি কম।
তবে কোনো তথ্য যাচাই না করে বারবার তাকে জড়িয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেত্রী।
পূজা চেরি স্পষ্ট করে বলেন, ‘বারবার বলতে চাই—আমার এখনও বিয়ে হয়নি। যখন হবে, আপনারাই প্রথম জানতে পারবেন।’
এরপর ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং কাউকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের বিষয়ে আইনি হুঁশিয়ারি দেন পূজা।
তিনি বলেন, ‘সবাইকে স্মরণে করিয়ে দিতে চাই, অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা এবং কোনো নাগরিক নিয়ে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’
নিজের পোস্টে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৪৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে পূজা লিখেছেন, প্রত্যেক নাগরিকের আইনি সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ও সুনাম রক্ষার অধিকার রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর ২৫ ধারায় ইন্টারনেট বা ডিজিটাল মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে মিথ্যা, অপমানজনক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়টি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।



