‘জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫’ লাভ করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মাননা প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন এবং হিসাব পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বক্তব্য দেন। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষ, অফিসপ্রধান এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, তার এ অর্জনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার অত্যন্ত গর্বিত। গবেষণার এ ধারা অব্যাহত রেখে তিনি দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আরও সুনাম বয়ে আনবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে অন্য শিক্ষক ও গবেষকদেরও বিশ্বমানের গবেষণায় এগিয়ে আসতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, পরিবেশবিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন’ ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫’ লাভ করেন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ৭ জুন ২০২৬ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
গত ৯ জুলাই বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে তিনি ‘জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫’ গ্রহণ করেন।
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম প্রায় ২৫ বছর ধরে পরিবেশ, বায়ুদূষণ ও প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন। বায়ুদূষণ, অ্যাটমস্ফেরিক সায়েন্স, জলবায়ু পরিবর্তন ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে তার গবেষণা বাংলাদেশের বায়ুর মানোন্নয়ন, দূষণের উৎস শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা জার্নালে তার অসংখ্য গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সম্মেলন ও কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন এবং ১৫০টিরও বেশি থিসিসের তত্ত্বাবধান করেছেন।




