30.2 C
Bangladesh
Thursday, June 11, 2026
BRS TIMES
অন্যান্য সংবাদপ্রচ্ছদশিরোনামসারাদেশ

সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি : নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে চলমান সড়ক সংস্কার প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের আলোকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যাখ্যা দিতে চিঠি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট (RUTDP) প্রকল্পের আওতায় গুরুদাসপুর পৌরসভায় প্রায় ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭১ টাকা ব্যয়ে দুটি সড়ক সংস্কার, আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, সড়ক বাতি স্থাপন এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ মোট পাঁচটি উন্নয়ন কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এ প্রকল্পের কাজ পায় সিনথিয়া-আলামিন-আনিসুর (জয়েন্ট ভেঞ্চার) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বর্তমানে পৌর এলাকার আনন্দনগর মহল্লার চাঁচকৈড় ওভারব্রিজ থেকে খুবজীপুর অভিমুখে পৌরসীমা পর্যন্ত এবং চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া দুখা ফকিরের মোড় থেকে তাড়াশিয়াপাড়া পৌরসীমা পর্যন্ত দুটি সড়কের সংস্কার কাজ চলছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কে খোয়ার স্তর বিছিয়ে পানি দিয়ে রোলিংয়ের কাজ করা হয়েছে। এ সময় সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মাণকাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, কাজে নিম্নমানের ইট, বালি ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সড়কের স্থায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি আধুনিক ও টেকসইভাবে নির্মাণের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও প্রথমদিকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে পৌর কর্তৃপক্ষ নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই করে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে নিম্নমানের বলে অভিযোগ ওঠা উপকরণ অপসারণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা বলেন, “কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী খোয়ার সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ বালি ও ছোট আকারের খোয়া মিশিয়ে পানি দিয়ে বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। নতুন পদ্ধতি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।”

গুরুদাসপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, “স্থানীয়দের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্মাণকাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।”

গুরুদাসপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, অনিয়মের অভিযোগগুলো নজরে আসায় কাজ বন্ধ করাসহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাজ শুরু করার আগে সিডিউল অনুসরণ করে ভালোমানে ইট, খোয়াসহ যাবতীয় উপকরণ পরীক্ষা নিরীক্ষার পর নতুন করে কাজ শুরু করতে পারবেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বিআরএসটি/এসএস

Related posts

‘পালাব না’ বলেও পালিয়ে গেলেন শেখ হাসিনা

News Desk

আ’লীগের স্বৈরাচারী আচরণ ও দুঃশাসনের বিষয়ে জনগণ অবগত : মঈন খান

brs@admin

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যুতে আশাবাদী বাংলাদেশ

News Desk

রাঙামাটিতে পাহাড়ে সেনা অভিযান, অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার

News Desk

আমার অভিযোগ সব ডাক্তারদের বিরুদ্ধে নয়: আসিফ নজরুল

News Desk

নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন পর্যটকরা

News Desk
Translate »