সুন্দরবনে অভিযান, অস্ত্র-গুলিসহ আটক করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য । সুন্দরবনে দস্যু দমন অভিযানে নতুন সাফল্যের দাবি করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বিশেষ অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বন্যপ্রাণী শিকারের সরঞ্জামসহ কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূল করতে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ জুন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের আমুরবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন ড্রেনের খাল এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে করিম শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আল-আমিন বাচ্চু হাওলাদারকে (৪৫) আটক করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৪টি একনলা বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৭৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, একটি টেলিস্কোপ, একটি সোলার প্যানেল, একটি ব্যাটারি, একটি ওয়াকিটকি চার্জার, শিংসহ একটি হরিণের মাথা, তিন কার্টন সিগারেট, দুই বস্তা চাল এবং একটি কাঠের নৌকা। পাশাপাশি বাহিনীটির ব্যবহৃত একটি আস্তানাও ধ্বংস করা হয়।
পরে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পি সি বাড়ইখালি এলাকায় তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেও ডাকাতি ও বন্যপ্রাণী শিকারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আল-আমিন বাচ্চু হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য আলামতসহ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
সংস্থাটি আরও বলেছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে তাদের নিয়মিত অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

