না লিখে আর পারলাম না—জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যগুলোর একটি হলো, অনেক সময় দূরের মানুষ নয়, বরং কাছের মানুষই ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিছু মানুষ আছে, যারা অন্যের সুখ, সফলতা কিংবা সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা কখনোই সহ্য করতে পারে না। আর তারই নির্মম উদাহরণ আমরা বারবার দেখি।
যে মানুষটি একসময় রুমমেট ছিল, যার সাথে ছিল একই ছাদের নিচে বসবাস, বিশ্বাস আর সম্পর্ক—সেই মানুষই ভয়ংকর অপরাধের পথ বেছে নিল। হত্যাকারীর নিজের কথাতেই উঠে এসেছে—
“আমি ওদের সুখ সহ্য করতে পারতাম না। ওদের উন্নতি সহ্য করতে পারতাম না। আমি ওদের সবকিছু নজরে রাখতাম—কোথায় যেত, কোথায় দেখা করত, কোথায় ঘুরত, সব দেখতাম।”
কত ভয়ংকর মানসিকতা হলে একজন মানুষ শুধু ঈর্ষা আর হিংসার কারণে দুইটি নিরীহ জীবন কেড়ে নিতে পারে!
শুধু এই ভাবনা—
“ওরা কেন ভালো আছে?”
“ওরা কেন এগিয়ে যাচ্ছে?”
“ওরা কেন সুখে আছে?”
এই হিংসাই কিছু মানুষকে মানুষত্বহীন করে দেয়।
আমাদের চারপাশেও এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা আপনার হাসি সহ্য করতে পারে না, আপনার শান্তি সহ্য করতে পারে না, আপনার উন্নতি সহ্য করতে পারে না। আপনি কেন ভালো আছেন, কেন সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন, কেন মানুষ আপনাকে ভালোবাসে—এসবই তাদের অন্তরে বিষের জন্ম দেয়। তারা সামনে বন্ধু সেজে থাকে, কিন্তু আড়ালে আপনার ক্ষতির পথ খুঁজে।
সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, এদের অনেককে আপনি নিজের মানুষ ভেবেই কাছে রাখেন। অথচ তারাই একসময় আপনার কষ্টের কারণ হয়।
তাই জীবনে সবাইকে জায়গা দিতে নেই।
সবাইকে বিশ্বাস করতে নেই।
সবাইকে নিজের খবর জানাতে নেই।
যারা আপনার শান্তি নষ্ট করে, যারা হিংসা পোষণ করে, যারা আপনার ভালো চায় না—তাদের থেকে দূরে থাকুন। কারণ জীবন ছোট, আর জীবনের সৌন্দর্য নষ্ট করার মতো মানুষকে জায়গা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
নিজেকে ভালোবাসুন, ভালো মানুষদের সাথে থাকুন, আর মনে রাখুন—
নীরব দূরত্ব অনেক সময় সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
এ কে এম ওয়ালিদ
Correspondent
Texas, USA

