29.1 C
Bangladesh
Wednesday, October 28, 2026
BRS TIMES
বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠক, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা
অন্যান্য সংবাদজাতীয়প্রচ্ছদশিরোনাম

বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠক: জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী এবং বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো নির্মাণ এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়ে এসব তথ্য জানান।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জাপানের সহযোগিতা চান তারেক রহমান

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনশিল্পের হাব এবং বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ এবং বৃহৎ ভোক্তাবাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে বিদেশি বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। একইভাবে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই লক্ষ্য অর্জনে জাপানের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, শিল্প উৎপাদনের অভিজ্ঞতা এবং বিনিয়োগ সক্ষমতাকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নতুন বাজার ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যয়

দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি। স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।

তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও কৌশলগত অংশীদারত্বের আরও বিস্তৃত পরিসরে উন্নীত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও এলএনজি অবকাঠামোয় জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের শিল্পায়ন, উৎপাদন কার্যক্রম, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য, পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বৈঠকে এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ও ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানের বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ, শিল্পকারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে বৈঠকে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

জ্বালানি খাতে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানো গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব

প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রস্তাবিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের প্রযুক্তি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধাবী, উদ্যোক্তা, গবেষক এবং প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ সম্প্রসারণ প্রয়োজন। জাপানের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতাকে একত্র করা গেলে নতুন শিল্প ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের বিকাশ ঘটতে পারে।

প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো সম্ভাবনাময় খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রযুক্তি গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে।

মহাকাশ গবেষণা ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ

প্রযুক্তি সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল এবং সংশ্লিষ্ট উন্নত প্রযুক্তিতে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মহাকাশ গবেষণা ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি বর্তমানে যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

জাপানের অগ্রসর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং গবেষণার অভিজ্ঞতার সঙ্গে বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারকে যুক্ত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ছয় বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক, দ্রুত ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান। এসব বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ এবং অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার, নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং আন্তজেলা যোগাযোগের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুতগতির রেল ও উড়াল সড়কের মতো অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যাতায়াতের সময় কমানো, পণ্য পরিবহন সহজ করা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা নির্মাণে জাপানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ক্ষেত্রে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিকল্পনা, প্রকৌশলগত দক্ষতা, অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় উল্লিখিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এ বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় জাপানি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং সম্ভাব্য প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

জ্বালানি, পরিবহন অবকাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি—এই তিনটি খাত বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব খাতে জাপানি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত হলে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে আলোচনায় উত্থাপিত বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বাস্তবে চূড়ান্ত অনুমোদন, চুক্তি বা অর্থ ছাড়ের বিষয়টি পৃথক। বিনিয়োগ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রস্তুতি, অর্থায়ন, কারিগরি মূল্যায়ন এবং দুই দেশের সিদ্ধান্তের ওপর।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি জানান, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কাজ করতে আগ্রহী।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসায়িক নিয়মকানুনের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সহজীকরণ এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি হলে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং নতুন প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরও বেশি নিশ্চয়তা পেতে পারেন।

বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকরের প্রত্যাশা

দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সহযোগিতার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এ ধরনের চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধি এবং জাপানের বাজারে ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়টিও এ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় অভিন্ন অঙ্গীকার

দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে বাংলাদেশের।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলা এবং শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বাংলাদেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্য বিবেচনায় জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারের ওপর গুরুত্বারোপ

মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সংলাপের গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়।

অগ্রাধিকারভিত্তিক সহযোগিতায় মন্ত্রীপর্যায়ের যৌথ কমিশনের প্রস্তাব

বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ অধ্যায় আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত করা, সহযোগিতার উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং আলোচনার বিষয়গুলোকে কার্যকর প্রকল্পে রূপ দিতে মন্ত্রীপর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ধরনের কমিশনের মাধ্যমে জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সরকারি পর্যায়ের আলোচনার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে পারে বলে বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশ সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ

বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো, প্রযুক্তি গবেষণা, মহাকাশবিজ্ঞান, বাণিজ্য এবং বেসরকারি বিনিয়োগ—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

একদিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে; অন্যদিকে জাপানের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ, উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৈঠকে আলোচিত এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েনের সম্ভাব্য বেসরকারি বিনিয়োগ, বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব, দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক ও উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা এবং জ্বালানি খাতে নতুন সহযোগিতার উদ্যোগগুলো ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে এসব প্রস্তাব ও আলোচনার বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা, প্রকল্প মূল্যায়ন, অর্থায়ন, চুক্তি এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

সামগ্রিকভাবে, দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বের আরও বিস্তৃত কাঠামোয় উন্নীত করার প্রত্যাশা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠক। প্রস্তাবিত যৌথ কমিশন, বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলোতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও ফলপ্রসূ হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Related posts

মেক্সিকোতে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ১৩ জনের প্রাণহানি

News Desk

ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৬%-এ নামানোর আশা

News Desk

বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

brs@admin

আসন্ন মধ্যপ্রাচ্য সফরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে পারেন ট্রাম্প: রিপোর্ট

brs@admin

ইউরোপ সফর শেষে দেশে ফিরলেন রুহুল কবির রিজভী

News Desk

রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ব্যবসায়ী নিহত

News Desk
Translate »