27.9 C
Bangladesh
Tuesday, October 20, 2026
BRS TIMES
জনপ্রিয়তা তলানিতে, নির্বাচনী মাঠে মরিয়া ট্রাম্প
অন্যান্য সংবাদআন্তর্জাতিকপ্রচ্ছদশিরোনাম

জনপ্রিয়তা তলানিতে, নির্বাচনী মাঠে মরিয়া ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় নিজ দলের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনমত জরিপে তাঁর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকায় চাপে পড়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান শিবির। এমন পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীরা।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের সদস্য নির্বাচিত হবেন। বর্তমানে উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও ব্যবধান খুব বেশি নয়। ফলে কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ফলাফলই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার কানসাস অঙ্গরাজ্যে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে সাতটি অঙ্গরাজ্যে ধারাবাহিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন ট্রাম্প। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এসব অঙ্গরাজ্যেই জয় পেয়েছিলেন তিনি। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যগত শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

নির্বাচনের আর মাত্র ১৫ দিন বাকি থাকতে কানসাসের উইচিটার উপকণ্ঠে আয়োজিত এক সমাবেশে অংশ নেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের পক্ষে ভোট চান। কানসাসে দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের প্রাধান্য থাকলেও এবারের সিনেট নির্বাচন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দলটির মধ্যে।

সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা যা-ই করুন, ভোট দিতে অবশ্যই বের হবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের শুধু ভোট দিতে আসতে হবে। আপনারা ভোট দিতে এলে আমরাই জিতব।’

নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান অজনপ্রিয় যুদ্ধের অবসান, করছাড় স্থায়ী করা এবং মার্কিন নাগরিকদের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এসব প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা করছেন তিনি।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কানসাসে ১৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। ১৯৩২ সালের পর থেকে অঙ্গরাজ্যটি কোনো ডেমোক্র্যাটকে সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত করেনি। এতদিন রিপাবলিকানদের নিরাপদ আসন হিসেবে বিবেচিত হলেও এবার সেখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

কানসাসের এই পরিস্থিতি রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ, দলটির শক্ত ঘাঁটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়ে গেলে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও সরকারের কার্যক্রমে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে না পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়াতে হবে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদেও কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কানসাসের পাশাপাশি নর্থ ক্যারোলাইনা ও আইওয়ায় রিপাবলিকানদের দখলে থাকা সিনেট আসন রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। জাতীয় পর্যায়ের রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনার আসনটি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অন্যদিকে মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা একটি আসন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন রিপাবলিকানরা। তবে জর্জিয়ায় এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি দলটি।

ট্রাম্পের নির্বাচনী সফরসূচিতে কানসাসের পর নর্থ ক্যারোলাইনা, আইওয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও মিশিগান রয়েছে। আগামী ছয় দিনে এসব অঙ্গরাজ্যে একাধিক সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা তাঁর।

২০২৪ সালের নির্বাচনে এই অঙ্গরাজ্যগুলো ট্রাম্পকে সমর্থন দিলেও মিশিগান, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনায় তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল তুলনামূলক কম। ফলে এবারের নির্বাচনে এসব এলাকায় ভোটের হিসাব বদলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন রিপাবলিকান নেতারা।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্পের এই প্রচারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নিজ দলের অনুগত সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা। কারণ, প্রেসিডেন্ট নিজে ব্যালটে না থাকলে তাঁর অনেক সমর্থক নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহ দেখান না। তাই ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সমর্থকদের উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে চাইছেন তিনি।

এদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলাদাভাবে নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও নেব্রাস্কায় প্রচার চালাচ্ছেন। নেব্রাস্কায় রিপাবলিকানদের বর্তমান সিনেটর একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন।

রিপাবলিকানদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়া। বিভিন্ন জনমত জরিপে তাঁর জনপ্রিয়তার হার দুই মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার চিত্র উঠে এসেছে।

রোববার প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ ও ইপসোসের জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার পাওয়া গেছে ৩৩ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা তাঁর কাজের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। একই দিনে প্রকাশিত এনবিসি নিউজের জরিপে তাঁর সমর্থনের হার ছিল ৩৪ শতাংশ।

কংগ্রেস নির্বাচনে কোন দলকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা আট শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। এনবিসি নিউজের জরিপেও নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান ১০ শতাংশ পয়েন্ট।

এই জরিপগুলো ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপের ফলাফল থেকে সরাসরি কংগ্রেসে কোন দল কতটি আসন পাবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে আসনভিত্তিক ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। পাশাপাশি জনমত জরিপে কয়েক শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত ভুলের সম্ভাবনাও থাকে।

তবু জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার প্রবণতা রিপাবলিকানদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব অঙ্গরাজ্য ও নির্বাচনী এলাকায় আগে রিপাবলিকানদের জয় অনেকটা নিশ্চিত বলে বিবেচিত হতো, সেখানেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ায় নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে দলটিকে।

ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অর্থনীতি এখন বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। দ্রব্যমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্পের আমলে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বাড়ছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের কারণে ভোক্তাদের ব্যয় আরও বাড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কানসাস ও আইওয়ার মতো কৃষিনির্ভর অঙ্গরাজ্যগুলোতে জ্বালানি ও অন্যান্য উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধি বিশেষভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়লে কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ব্যয়েও পড়তে পারে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। কারণ, নির্বাচনের সময় অনেক ভোটারই নিজেদের আয়, কর্মসংস্থান, নিত্যপণ্যের দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে অভিবাসন নীতিতেও ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ তাঁর জনপ্রিয় নীতিগত অবস্থানগুলোর একটি হলেও ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি জরিপে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তাঁর নির্বাসন কর্মসূচি মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

অর্থনীতি, অভিবাসন ও ইরান যুদ্ধ—এই তিনটি বিষয় নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এসব ইস্যুতে ভোটারদের অসন্তোষ ডেমোক্র্যাটদের প্রচারে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।

তহবিল সংগ্রহেও এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা

ট্রাম্পের নীতির প্রতি জনঅসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচার জোরদার করছে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলটির প্রার্থীরা রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন।

তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, ওহাইও, আইওয়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থীরা রিপাবলিকান প্রার্থীদের তুলনায় বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। নির্বাচনী প্রচার, বিজ্ঞাপন এবং ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

টেক্সাসে সোমবার আগাম ভোট শুরু হয়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী জেমস তালারিকো তৃতীয় প্রান্তিকে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছেন। সিনেট নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর জন্য এক প্রান্তিকে এটি রেকর্ড পরিমাণ তহবিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কেন প্যাক্সটন সংগ্রহ করেছেন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা তালারিকোর সংগ্রহ করা অর্থের এক-তৃতীয়াংশেরও কম।

পাঞ্চবোল নিউজের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে অন্তত ৪৭ জন রিপাবলিকান বর্তমান সদস্যের চেয়ে তাঁদের ডেমোক্র্যাট বা স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বীরা বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এই চিত্র নির্বাচনী প্রতিযোগিতার তীব্রতা এবং ডেমোক্র্যাটদের তহবিল সংগ্রহের সক্ষমতা তুলে ধরছে।

অর্থ সংগ্রহে পিছিয়ে পড়া রিপাবলিকান প্রার্থীরা ঘাটতি পূরণে বাইরের বিভিন্ন সংগঠনের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করছেন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কও এসব প্রচেষ্টায় অর্থ দিয়েছেন। চলতি নির্বাচনী চক্রে তাঁর অনুদানের পরিমাণ প্রায় ৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার পেয়েছেন টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন।

আগাম ভোটে বাড়ছে নির্বাচনী তৎপরতা

নির্বাচনের নির্ধারিত দিনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট শুরু হয়েছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকশন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ইতোমধ্যে ৯০ লাখেরও বেশি ভোট পড়েছে।

আগাম ভোটের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের প্রচারেও গতি এসেছে। ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিজ দলের সমর্থকদের সক্রিয় রাখা এবং দোদুল্যমান ভোটারদের সমর্থন অর্জন—সবকিছুই এখন নির্বাচনী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কানসাসের সমাবেশে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানাতে এসেছিলেন ৬৪ বছর বয়সী থিয়েটার পরিচালক কিম ক্লেইন। উইচিটার কাছে বসবাসকারী ক্লেইন ভিড়ের কারণে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করতে পারেননি। তবু ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন।’

অন্য রিপাবলিকান প্রার্থীদেরও ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ক্লেইন বলেন, ‘তাকে সময় দিতে হবে। মাত্র দুই বছর হয়েছে। এসব কাজে সময় লাগে।’

ক্লেইনের এই বক্তব্য ট্রাম্পের প্রতি তাঁর অনুগত সমর্থকদের অবস্থান তুলে ধরলেও সামগ্রিক জনমত জরিপে উঠে আসা অসন্তোষের চিত্র রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। অর্থনীতি, জ্বালানির দাম, অভিবাসন নীতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমতের প্রভাব ভোটের ফলাফলে কতটা পড়ে, তা নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। নিজ দলের শক্ত ঘাঁটিতে ট্রাম্পের ধারাবাহিক প্রচার সেই নির্বাচনী লড়াইয়ের গুরুত্বই তুলে ধরছে।

Related posts

প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া সময়ের মাঝেই নির্বাচন হতে হবে : সেলিম উদ্দিন

brs@admin

পল্লবী মেট্রো স্টেশনের নিচে যুবকের আইফোন ছিনতাই

brs@admin

ইতিহাসগড়া বাংলাদেশ ও অধিনায়ক আফিদার প্রশংসায় ‘দ্য গার্ডিয়ান’

News Desk

রাখাইনে জামায়াতে ইসলামীর রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব, যা বলল মিয়ানমার জান্তা

brs@admin

তারেক রহমানের দেশে ফিরতে বাধা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

brs@admin

‘সেফ এক্সিট’ প্রসঙ্গে ফেসবুকে আসিফ মাহমুদের পোস্ট

News Desk
Translate »