32.1 C
Bangladesh
Tuesday, October 20, 2026
BRS TIMES
সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী
অন্যান্য সংবাদজাতীয়প্রচ্ছদশিরোনাম

সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী

মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাওয়ার পথে রংপুরের পাগলাপীরে সড়কের দুই পাশে সমবেত মানুষের উদ্দেশে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের সবার দেশ। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে সব ধর্মের মানুষের অবদান রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিয়েছেন। তাই দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ নির্মাণেও সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

পথসভায় উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমরা সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ে তুলতে চাই। আপনারা কি আমার সঙ্গে আছেন?’ এ সময় সড়কের দুই পাশে সমবেত জনতা হাত উঁচিয়ে তাঁর আহ্বানে সমর্থন জানান।

তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা রয়েছে। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি না করে, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় হয়—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

পথসভায় সরকার গঠনের পর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার গঠনের পর থেকেই খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের ও অসচ্ছল পরিবারের সহায়তায় চালু করা হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড। কৃষকদের সহায়তা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা চলছে।

ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের কল্যাণে কাজ করাই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সব ধর্মের মানুষের প্রতি সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা দেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণেও সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা বজায় থাকলে জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে দেশ গঠনের কাজে একযোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার মহাখালী ও বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে একটি সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামুসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সৈয়দপুর থেকে সড়কপথে রংপুর যাওয়ার সময় পাগলাপীরে তিনি পথসভায় অংশ নেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁকে স্বাগত জানাতে সমবেত হন। তাঁদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব নাগরিককে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং পূজার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে তাঁর। এরপর তিনি রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। সফর শেষে রাতে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ অন্যরা।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী পালিত হচ্ছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান চলছে। বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া এই বক্তব্যে দেশ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান উঠে এসেছে। ধর্মীয় সৌহার্দ্য বজায় রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

Related posts

স্টারলিংক কী? কীভাবে কাজ করে মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা

brs@admin

ইরান থেকে ২৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন আজ

brs@admin

হাঁস চুরির সাজা নামাজ!

News Desk

নিবন্ধন ও প্রতীক ফেরত চেয়ে জামায়াতের আপিলের রায় ১ জুন

brs@admin

আটকের পর ইরানের ধর্মীয় নেতাকে ছেড়ে দিয়েছে সৌদি আরব

brs@admin

ঢাকায় জাতিসংঘের গুমবিষয়ক প্রতিনিধি দল

brs@admin
Translate »