টানা তিন দফা কমার পর দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে প্রতি ভরি ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়েছে। ফলে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট হলমার্ক করা স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা দরে।
এর আগে টানা তিন দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর একদিন পরই নতুন করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি।
কোন ক্যারেটের স্বর্ণ কত
বাজুসের নতুন মূল্য অনুযায়ী, আজ দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।
এ ছাড়া প্রতি ভরি—
- ২১ ক্যারেট স্বর্ণ: ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা
- ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ: ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা
- সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ: ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা
এখানে এক ভরি স্বর্ণের পরিমাণ ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম।
কেন বাড়ল স্বর্ণের দাম
বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে।
এর আগে কত ছিল
সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই সময় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
তখন ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর ও ৬ সেপ্টেম্বরও দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। অর্থাৎ কয়েক দফা কমার পর এবার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হলো স্বর্ণের বাজার।
গয়না কিনলে বাড়তি খরচের বিষয়
বাজুসের নির্ধারিত স্বর্ণের দামের সঙ্গে অলংকার তৈরির ক্ষেত্রে ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।
অন্যদিকে পুরোনো অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ কর্তন করতে হবে। পুরোনো অলংকার বিক্রি বা পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
ফলে স্বর্ণের মূল দামের পাশাপাশি গয়না কেনার সময় মজুরি ও অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ সম্পর্কে ক্রেতাদের আগে থেকেই জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




