জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণতন্ত্র শুধু সরকার গঠনের একটি প্রক্রিয়া নয়; এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, বাক্স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকলে একটি সমাজ স্বৈরাচার, শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত হয়ে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারে।
আগামীকাল ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী থাকলে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত হয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে গণতন্ত্র দুর্বল হলে স্বৈরাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বৈষম্য সমাজে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
‘গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে আওয়ামী লীগ’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে। জনগণ ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, সামাজিক সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে। তবে নির্বাচনের আগে বিএনপি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‘জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না’
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাসের কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ বারবার ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, ইতিহাসজুড়ে স্বৈরাচারী মনোভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে বিভিন্ন সময়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত করেছে।
‘এই বিপ্লব ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না’—মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী যেকোনো মূল্যে বৈষম্যমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
‘গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই’
ইনসাফ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধনির্ভর বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের এই দিনে গণতন্ত্রকে সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী দেশবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমতা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় দলটি কাজ করে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
একই সঙ্গে দেশে গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মতো ঘটনা আর কোনোভাবেই ঘটতে দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত করার আহ্বান
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনকে সংকীর্ণ দলীয়করণ থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রশাসনকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করতে হবে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব থেকে দেশকে মুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তার মতে, শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সত্যিকার অর্থে গণমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোকে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। জনগণের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
বৈষম্যমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, ন্যায্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখার জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার, আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।




