পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের মা ও শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ইসলামাবাদ জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অবস্থিত মা ও শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডে স্থানীয় সময় সকাল ৭টার কিছু আগে আগুন লাগে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে জরুরি সেবা, পুলিশ ও বিশেষজ্ঞ দল।
জেলা প্রশাসনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৪ শিশু নিহত হয়েছে। তবে নিহত শিশুদের বয়স সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ইসলামাবাদের প্রধান কমিশনার সোহেল আশরাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল, বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
তবে কীভাবে হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। আগুনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তানে বড় ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে দুর্বল অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত ভবন নির্মাণবিধি এবং বিদ্যমান নিয়ম যথাযথভাবে প্রয়োগ না করার কারণে প্রায়ই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে করাচির একটি বিপণিবিতানে অগ্নিকাণ্ডে ৬৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। এর আগে ২০২৩ সালে করাচির একটি শপিং মলে আগুনে অন্তত ১১ জন এবং ২০২১ সালে একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ শ্রমিক নিহত হন।
২০১২ সালে করাচির বালদিয়া টাউনের একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুনে অন্তত ২৫০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ওই কারখানাটিতে জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থাও ছিল না।



