সুন্দরবনে আত্মসমর্পণ করল ‘ছোট সুমন বাহিনী’, সক্রিয় ডাকাতদের সতর্ক করল কোস্ট গার্ড।
সুন্দরবনে দস্যু দমনে অভিযান আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। চলমান অভিযানের মুখে এবার আত্মসমর্পণ করেছে সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধানসহ সাত ডাকাত। একইসঙ্গে বনাঞ্চলে সক্রিয় অন্য দস্যুদেরও দ্রুত আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে মোংলায় কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” ও “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এসব অভিযানে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড গোলা, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি ও দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে আটক করা হয়েছে ২১ বনদস্যুকে।
এ ছাড়া দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা শেষে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, টানা অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর অবস্থানের কারণে সুন্দরবনের দস্যু বাহিনীগুলো এখন অনেকটাই কোণঠাসা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মে রাতে বাগেরহাটের মোংলা থানার নন্দবালা খাল এলাকায় ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাত ডাকাত আত্মসমর্পণ করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় একনলা বন্দুক, দুটি পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও তিন রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও মাহফুজ মল্লিক (৩৪)। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে বাহিনীটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যারা এখনও দস্যুতা চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

