একাদশে জায়গাই ছিল না, সেই সাঞ্জুই বিশ্বকাপের সেরা!যে ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার প্রায় শেষ বলেই ধরে নিয়েছিল অনেকেই, সেই সাঞ্জু স্যামসনই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠলেন ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম বড় নায়ক। অনিশ্চিত একাদশ থেকে উঠে এসে তিনি জিতলেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার, লিখলেন এক অসাধারণ কামব্যাকের গল্প।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একাদশে জায়গা নিশ্চিত ছিল না স্যামসনের। গ্রুপ পর্বে তিনি সুযোগ পান মাত্র একটি ম্যাচে। পুরো টুর্নামেন্টের প্রথম পাঁচ ম্যাচে একাদশে জায়গা হয়েছিল কেবল নামিবিয়ার বিপক্ষে, সেখানেও ২২ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি।
এর আগে আগের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দলের সঙ্গে থাকলেও কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি স্যামসন। ভারত শিরোপা জিতলেও মাঠে নামতে না পারার আক্ষেপ থেকেই গিয়েছিল তার।

চলতি আসরেও পরিস্থিতি খুব একটা আলাদা ছিল না। তবে হঠাৎ করেই সুযোগ তৈরি হয়। সতীর্থ রিঙ্কু সিংয়ের বাবার অসুস্থতার কারণে দলে পরিবর্তন আনতে হয়, আর সেই সুযোগেই একাদশে জায়গা পান স্যামসন। যদিও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ২৪ রানে থামতে হয়েছিল তাকে।
কিন্তু এরপরই বদলে যায় গল্প।
ধীরে ধীরে দলের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠেন স্যামসন। সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ সুপার এইট পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন। ভেঙে দেন বিরাট কোহলির এক যুগের পুরোনো রেকর্ডও।
পুরো টুর্নামেন্টে ৮০.২৫ গড় ও ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেটে ৩২১ রান করেন স্যামসন। যা ভারতের হয়ে কোনো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ এবং সব মিলিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ৩১৯ রান করেছিলেন কোহলি।
টানা তিন ম্যাচে ফিফটি করার পথে স্যামসন গড়েছেন আরেকটি অনন্য কীর্তিও। তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপের একই আসরে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল দুই ম্যাচেই ফিফটি করার রেকর্ড গড়েন তিনি।
এদিকে টুর্নামেন্টজুড়ে তার ব্যাট থেকে আসে ২৪টি ছক্কা, যা বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার নতুন রেকর্ড।
অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার পরিসংখ্যান ছিল খুবই সাধারণ। বিশ্বকাপের আগে ৭ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ৮৯ রান। একমাত্র ফিফটির ইনিংস বাদ দিলে বাকি ৬ ম্যাচে তার রান ছিল মাত্র ৩৪।
সেই হতাশার জায়গা থেকেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করেছেন সাঞ্জু স্যামসন, লিখেছেন দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প।

