শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
BRS TIMES
জাতীয়প্রচ্ছদশিরোনাম

বসন্তের আগমনে সেজেছে সুনামগঞ্জের শিমুলবাগান

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। শীতের শেষেই বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসাব অনুযায়ী আজ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন ‘পহেলা ফাল্গুন’। আর এই বসন্তে প্রকৃতির রূপ বদলের অপেক্ষায় থাকেন মানুষ। বসন্ত আসার সাথে সাথে প্রকৃতিতে বয়ে চলে দক্ষিণা হাওয়া। মাতাল সমীরণ, বাতাসে পাতা ঝরার শব্দ, সেই সাথে গাছে গাছে নতুন পাতা আর ফুলের সমারোহ। গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কোকিলের কুহুতান আবেগী মনকে করে তোলে উদাস। শীতের খোলসে চুপসে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠে। পলাশ, শিমুল গাছে লাগে বসন্তের ছোঁয়া। যুগে যুগে বসন্ত প্রভাবিত করেছে কবি মনকেও। তাইতো কবি সুভাস মুখোপাধ্যায় তার কবিতায় বলেছেন-‘ফুল আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত’।

কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন এলো বনান্তে পাগল বসন্ত/এলো বনান্তে পাগল বসন্ত/বনে বনে মনে মনে রং সে ছড়ায় রে, চঞ্চল তরুণ দুরন্ত।

আর এই বসন্তের আগমনে শিমুলগাছ লালে লাল হয়ে আছে। আগুনরাঙা ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে পুরো বাগান।

সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পশ্চিম পাড়ে মানিগাঁও এলাকায় রয়েছে শিমুলবাগান। সীমান্ত এলাকায় যাদুকাটা নদীর তীর ঘেঁষে থাকা এই বাগান এখন পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। সাথে রয়েছে মঘোলয় পাহাড়, নদী ও হাওর। দেশের তরুণ, তরুণী, কবি সাহিত্যিক ও শিল্পীসহ সকল স্থরের মানুষ এই শিমুল বাগানের খোঁজ খবর নেন।

পয়লা ফাল্গুনেই বাসন্তী সাজে সেজে ছুটে আসেন জেলার রূপের নদী যাদুকাটার তীরে থাকা নয়নাভিরাম এই শিমুলবাগানে। কেউ আসেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। আবার কারও সঙ্গে থাকে প্রিয় মানুষ, কেউবা আবার একা এসে নিজেই প্রকৃতির মধ্যে বিভোর হয়ে যান।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকেরা আসেন এই সময়। বাগানে ঘুরে বেড়ান। ছবি তোলেন। তরুণেরা দল বেঁধে গাইতে থাকেন গান।

বসন্ত আসলেই শাহ আবদুল করিম এর গাণ গাইতে থাকেন বসন্ত বাতাসে সইগো, বসন্ত বাতাসে…। এছাড়াও হাছন রাজা ও দুর্বিন শাহের গানের কলি গাইতে গাইতে প্রিয়জনকে নিয়ে সময় কাটান এই শিমুলবাগানে।

ফরিদপুর থেকে শিমুল বাগানে ঘুরতে আসা আরিফা দম্পতি জানান, আমাদের বিয়ের দুই মাস হলো। আর তাই বিয়ের প্রথম বসেন্ত আমরা শিমুলবাগানে ঘুরতে আসলাম। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকুরি করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তার ছোট ভাই। তারা শিমুলবাগানের সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত বলে জানান।

শিমুলবাগান এখন পর্যটকদের কাছে পছন্দের জায়গা। পরিবার, বন্ধুসহ অনেকেই এখানে বেড়াতে আসেন

সুনামগঞ্জ শহরের বাসিন্দা আকাশ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে আসছেন শিমুলবাগান ও যাদুকাটায়। তিনি বলেন, আমি কয়েকবার শিমুলবাগানে এসেছি। এবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এলাম। এ সমটায় শিমুলগাছে ফুল ফুটে পুরো বাগান রাঙিয়ে তোলে।’

কলেজ শিক্ষার্থী পার্থ সাহা বলেন, শিমুলবাগান বসন্তের সাজে সেজে আমাদের স্বাগত জানাতে। প্রকৃতির এই নিয়ামক খুবই সুন্দর চমৎকার।

এ বাগানটি ২০০১ সালে এটি গড়ে তোলেন এলাকার একজন বৃক্ষপ্রেমী, সমাজকর্মী জয়নাল আবেদীন। তিনি এখন বেচেঁ নেই। তাঁর উত্তরসুরীরা এই বাগানের নাম দিয়েছেন ‘জয়নাল শিমুলবাগান’। ৩০ একর জমির ওপর বাগানে প্রায় তিন হাজার গাছ রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই ফুল ফুটতে থাকে। মাসজুড়েই গাছে ফুল থাকে। এরপর ধীরে ধীরে ঝরতে থাকে ফুল। একসময় গাছে নতুন পাতা গজায়, তখন বাগান সবুজ হয়ে যায়।

প্রয়াত জয়নাল আবেদীনের ছেলে রাখাব উদ্দিন বাসসকে বলেন, পর্যটকদের সুবিধার জন্য বাগানে ক্যান্টিন রয়েছে। রয়েছে বিশ্রামের সুব্যবস্থা। উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি গেস্টহাউসও করা হয়েছে।

বাগানে এই সময় পর্যটকদের ভিড় বেশি দেখা যায়। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ দিনগুলোয় পুলিশের টহল থাকে বলে বাসসকে জানান, তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

Related posts

সংবিধানের নামে দেশে যেটি আছে সেটি আওয়ামী বিধান: হাসনাত

brs@admin

ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল : সিইসি

News Desk

বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ

brs@admin

সড়ক দুর্ঘটনায় ইবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

brs@admin

‘স্বৈরাচারী সরকার তরুণদের ভবিষ্যৎ ছিনিয়ে নিয়েছিল’ : আসিফ মাহমুদ

brs@admin

হঠাৎ অসুস্থ বিএনপি মহাসচিব

News Desk
Translate »