ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার দক্ষিণের জেইতুন এলাকায় দেড় সহস্রাধিক ভবন গুড়িয়ে দিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে এখানকার বাসিন্দারা এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। গাজা সিভিল ডিফেন্সের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
গাজা সিটি দখলের লক্ষ্যে চলতি মাসের শুরুর দিকে জেইতুন এলাকায় স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। অভিযানের অংশ হিসেবে এই এলাকার সব ভবন গুড়িয়ে দিয়ে বাসিন্দাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গাজা সিভিল ডিফেন্স-এর মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, জেইতুন এলাকার দক্ষিণ অংশে কোনো ভবন এখন আর দাঁড়িয়ে নেই।
মাহমুদ বাসাল আরও জানান, ইসরায়েলি বাহিনী রোবটের পাশাপাশি অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে প্রতিদিন সাতটি ভবনে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে এবং কোয়াডকপ্টার ড্রোন ব্যবহার করে বাড়ির ছাদে বিস্ফোরক ফেলছে। এভাবে ভবন ধ্বংসের ফলে জেইতুনের ৮০ শতাংশ বাসিন্দা গাজা শহরের পশ্চিম বা উত্তরাঞ্চলের দিকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজা নগরীর আরও ভেতরে ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলি সেনারা। ট্যাঙ্ক নিয়ে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে সেখানকার বাড়িঘর। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিগবিদিক পালাচ্ছেন বাসিন্দারা।
প্রতিবেদন মতে, মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) গভীর রাতে গাজা নগরীর উত্তর সীমানায় অবস্থিত এবাদ-আলরহমান এলাকায় প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় তারা বিভিন্ন আবাসিক ভবনে গোলাবর্ষণ করে। এতে অনেকে আহত হন। বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয় অসংখ্য বাসিন্দাকে।
এদিকে গাজায় দুর্ভিক্ষ আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। অনাহারে ও অপুষ্টিতে মৃত্যু হয়েছে আরও ১০ জনের। এদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। এই নিয়ে গাজায় অনাহারে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৩ জনে। এদের মধ্যে ১১৯ জনই শিশু।
বিআরএসটি/এসএস

