ইউক্রেন থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে মস্কোকে যুদ্ধে সহায়তা করা ৩০ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ড্যানিয়েল মার্টিনডেলকে রাশিয়ার পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তিনি ক্রেমলিনকে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের লক্ষ্যবস্তুর তথ্য দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন সম্প্রচারিত হয়। সেখানে দেখা যায়, ছাঁটা দাড়ি ও স্যুট-টাই পরা মার্টিনডেল নতুন কাগজপত্র গ্রহণের সময় হাসছেন।
তিনি রুশ ভাষায় বলেন, ‘আমি ড্যানিয়েল রিচার্ড মার্টিনডেল, স্বেচ্ছায় এবং সচেতনভাবে রাশিয়ান ফেডারেশনের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে, সংবিধান পালনের শপথ নিচ্ছি।’
মার্টিনডেল রাশিয়ান পাসপোর্ট ধরে টেলিভিশন ক্যামেরায় বলেন, ‘রাশিয়া কেবল আমার বাড়ি নয়, আমার পরিবারও – এই বিশ্বাসটিতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এটি কেবল আমার হৃদয়েই নয়, আইনতও রয়েছে।’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, মার্টিনডেল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক এবং ইন্ডিয়ানার একটি খামারে বেড়ে ওঠেন। পরে তিনি গ্রামীণ চীনে চলে যান। চীনে থাকাকালীন সীমান্ত পেরিয়ে রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যে একটি সংক্ষিপ্ত ভ্রমণ তার মনে রাশিয়ার প্রতি আগ্রহের জন্ম দেয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৮ সালে মার্টিনডেল প্রশান্ত মহাসাগরের রাশিয়ান বন্দর শহর ভ্লাদিভোস্টকে চলে যান। সেখানে তিনি রুশ ভাষা অধ্যয়ন করেন এবং ইংরেজি পড়াতে শুরু করেন। এক বছর পরে শ্রম আইন লঙ্ঘনের জন্য তাকে নির্বাসিত করা হয়। তখন তিনি দক্ষিণ পোল্যান্ডে চলে যান, কিন্তু রাশিয়ায় ফিরে যেতে আকুল ছিলেন।
২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে হাজার হাজার সৈন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার কয়েকদিন আগে মার্টিনডেল ইউক্রেনে প্রবেশ করেন।
মার্টিনডেল গত নভেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি টেলিগ্রামের মাধ্যমে রাশিয়াপন্থী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং দেশটির পূর্বে দোনেতস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সামরিক স্থাপনা সম্পর্কে তথ্য তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
রাশিয়াকে সাহায্য করার পেছনে মার্টিনডেলের প্রেরণা সম্পর্কে জানতে রয়টার্স তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে এ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
বিআরএসটি / জেডএইচআর

