ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং কূটনীতির ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি। ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বর্তমানে ১৭তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে রিও ডি জেনেইরোতে অবস্থান করছেন। ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েইরার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, আরাঘচি ব্রিকস সম্মেলন আয়োজনের জন্য ব্রাজিলকে ধন্যবাদ জানান এবং বহুপাক্ষিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের শাসন বজায় রাখতে ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ইরান ও ব্রাজিলের দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপরও জোর দেন।
আরাঘচি বলেন, ‘জায়নিস্ট শাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এসব অবৈধ হামলা জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থা ও কূটনীতির ভিত্তিমূলকে আঘাত করে, যার ফলে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গভীর পরিণতি রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত থাকার কারণ হলো— এদের দায়মুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু ইউরোপীয় দেশের পূর্ণ সমর্থন। সব দেশেরই আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এবং আঞ্চলিক আগ্রাসন রোধে ইসরায়েলের অপরাধ থামাতে।’
ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের, বিশেষ করে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
উভয় মন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করেন এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন আয়োজনে সম্মত হন।
বিআরএসটি/এসএস

