চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে চলছে ‘শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’।
প্রায় এক হাজার স্কুলপড়ুয়া ফুটবলারকে নিয়ে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টকে ঘিরে গত এক মাস ধরে শিশু-কিশোরদের প্রাণোচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে জেলা স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকা।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—স্লোগানকে সামনে রেখে ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’-এর উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম মহানগরের স্কুলগুলোকে নিয়ে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।
গত ১৪ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে খেলা চলাকালে অংশগ্রহণকারী দলের খেলোয়াড়, সহপাঠী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।
আজ শনিবার টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
তিনি বাসসকে বলেন, নতুন প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুদৃঢ় এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। মহানগর বিএনপির এই আয়োজনও তার অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মাদক, সন্ত্রাস ও বিপথগামিতা থেকে দূরে থাকবে বলে তারা আশা করছেন। এতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার পর নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। ৬০ থেকে ৬৫টি স্কুল অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করলেও বাছাই করে ৪৮টি স্কুলের দলকে সুযোগ দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলের খেলোয়াড়দের জার্সি, বুটসহ প্রয়োজনীয় খেলার সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেন্যুতে যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে ট্রফির পাশাপাশি যথাক্রমে দুই লাখ, এক লাখ ও ৫০ হাজার টাকা প্রাইজমানি দেওয়া হবে। খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে প্রতিটি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের জন্যও ক্রেস্টসহ আকর্ষণীয় প্রাইজমানি রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বাসসকে বলেন, স্কুল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনা এবং শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও শাসনকাল সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা তাদের জীবন ও শাসনকালের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হবে বলে তারা আশা করছেন।
এরশাদ উল্লাহ জানান, টুর্নামেন্ট সফল করতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রধান উপদেষ্টা, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খানকে আহ্বায়ক এবং নগর বিএনপির সদস্য মশিউল আলম স্বপনকে সদস্য সচিব করে পরিচালনা কমিটি ও নয়টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই খেলাধুলা থেকে দূরে সরে অনলাইন গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় কাটাচ্ছে। পাশাপাশি উঠতি বয়সী অনেক শিক্ষার্থী মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি সন্তানরা যেন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে এবং বিপথে না যায়, সে লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। আগে পড়ালেখার পর খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, তা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
নাজিমুর রহমান বলেন, ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে সামনে রেখে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে স্কুল পর্যায়ে এ ধরনের বড় আয়োজন আগে হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, টুর্নামেন্টকে ঘিরে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ক্ষুদে ফুটবলার, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তা গর্ব করার মতো।
তিনি বলেন, এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নিয়াজ মোহাম্মদ খান আরও বলেন, টুর্নামেন্টের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান এবং তাদের কর্মজীবন সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানতে পেরেছে বলে তারা মনে করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়াঙ্গনকে উজ্জীবিত করে নতুন প্রজন্মকে সুস্থ ও সাবলীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নিয়েছেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।




