26.6 C
Bangladesh
Sunday, September 13, 2026
BRS TIMES
প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ, উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম হবে
অন্যান্য সংবাদখেলাধূলাপ্রচ্ছদশিরোনাম

প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ, উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের খেলাধুলায় যুক্ত করতে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক।

তিনি বলেছেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচকভাবে গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখতে হবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে তাদের জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ দেওয়ার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার অবকাঠামো উন্নয়ন করা জরুরি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শরীয়তপুরের সখিপুরের হাবিব উল্যাহ ডিগ্রি কলেজ মাঠে হাবিব উল্যাহ চোকদার স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমিনুল হক।

প্রতিটি ইউনিয়নে একটি মাঠ সংরক্ষণের উদ্যোগ

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলাধুলার জন্য একটি করে মাঠ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের মোট ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক প্রতিভাবান তরুণ থাকলেও পর্যাপ্ত মাঠ ও ক্রীড়া অবকাঠামোর অভাবে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায় না। তাই ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ সংরক্ষণের মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা হবে।

শুধু মাঠ তৈরি করাই নয়, এসব মাঠ যাতে দীর্ঘমেয়াদে খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করা যায়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিটি উপজেলায় হবে মিনি স্টেডিয়াম

তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো শক্তিশালী করতে প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান আমিনুল হক।

তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ক্রীড়া অবকাঠামো তৈরি হলে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হবে। এর ফলে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে।

তার মতে, জেলা বা রাজধানীভিত্তিক ক্রীড়া অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত খেলাধুলার সুযোগ ছড়িয়ে দিতে হবে।

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সময়ে খেলাধুলা শুধু অবসর বিনোদনের বিষয় নয়। একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী তরুণ খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে পারেন।

তিনি বলেন, সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে তাদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছি। তৃণমূল থেকে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে চাই।”

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু রাজধানী বা বড় শহরের খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান তরুণদেরও জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার সুযোগ দিতে হবে।

ফুটবলের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো ব্যাপক

হাবিব উল্যাহ চোকদার স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল দেখতে বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মাঠে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে দেশের মানুষের মধ্যে ফুটবল ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ এখনো অনেক বেশি।

আমিনুল হক বলেন, “মাঠে বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি প্রমাণ করে, দেশের ফুটবল ও খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো অনেক বেশি। এই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের খেলাধুলাকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।”

তার মতে, মানুষের এই আগ্রহকে সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামোর মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধুলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

খেলাধুলার মাধ্যমে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা

তরুণ সমাজকে মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্বের ওপর বিশেষভাবে জোর দেন আমিনুল হক।

তিনি বলেন, একজন তরুণ নিয়মিত খেলাধুলায় যুক্ত থাকলে তার মধ্যে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি হয়। একই সঙ্গে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার ক্ষেত্রেও খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে শুধু আইন প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে তাদের জন্য ইতিবাচক ও সৃজনশীল পরিবেশ তৈরি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান

আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলার পাশাপাশি তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত করতে হবে। খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চা একজন তরুণের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও সৃজনশীলতা তৈরি হয়। একই সঙ্গে খেলাধুলা তাদের শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনে সহায়তা করে।

তাই একটি সুস্থ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

‘সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে চাই’

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের যুবসমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আমিনুল হকের বক্তব্যে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

তৃণমূল থেকেই জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্য

বাংলাদেশে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছেন, যারা সুযোগের অভাবে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেলে ধরতে পারেন না। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত মাঠ এবং ক্রীড়া অবকাঠামো তৈরি হলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মাঠ সংরক্ষণ এবং উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হবে।

এতে শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি তরুণদের মধ্য থেকেও প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই করা সহজ হবে। পর্যায়ক্রমে এসব খেলোয়াড়কে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রতিভা তৈরি হতে পারে।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতারা

হাবিব উল্যাহ চোকদার স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ ও সাঈদ আহমেদ আসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই ফুটবল টুর্নামেন্টে বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি ছিল। ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর যে উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের জন্য ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Related posts

হাসিনার গুলির সামনে দাঁড়াতে ভয় পাই নাই: আখতার

News Desk

‘জুলফিকার’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলি বিমানবন্দরে হামলা হুথিদের

News Desk

মধ্যরাত পর্যন্ত কেনাকাটায় ব্যস্ত, বাসার সব নিয়ে গেল চোর

brs@admin

আজ টিভিতে কোন খেলা আছে? দেখে নিন ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর সূচি

brs@admin

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার প্রথম ওয়ানডে আগামীকাল

brs@admin

লাইফ সাপোর্টে তোফায়েল আহমেদ, মৃত্যুর খবর গুজব

News Desk
Translate »