বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
BRS TIMES
অন্যান্য সংবাদআন্তর্জাতিকপ্রচ্ছদশিরোনাম

সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড়’ হামলা

সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এটি ‘বড় ধরণের’ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে। গত মাসে এক হামলায় তিন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

অঞ্চলটির যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তত্ত্বাবধানকারী সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সিরিয়াজুড়ে আইএসকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। জঙ্গি গোষ্ঠীটির নামের সংক্ষিপ্ত রূপ ‘আইএসআইএস’ ব্যবহার করে এ তথ্য জানানো হয়।

এক্সে দেওয়া সেন্টকমের পোস্টে হামলার নির্দিষ্ট স্থান উল্লেখ করা হয়নি।

পোস্টের সঙ্গে থাকা ঝাপসা আকাশচিত্রে একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলো গ্রামীণ এলাকায় ঘটেছে।

সেন্টকম জানায়, ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’-এর অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। এটি পালমিরায় যুক্তরাষ্ট্র ও সিরীয় বাহিনীর ওপর আইএসের প্রাণঘাতী হামলার সরাসরি জবাবে শুরু করা হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে জর্ডানের বিমানবাহিনীও আইএসের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলা চালিয়েছে বলে রোববার দেশটির সেনাবাহিনী জানায়।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়ার ভেতরে বিভিন্ন এলাকায় ‘একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হানা হয়েছে।

গত ১৩ ডিসেম্বর পালমিরায় একক বন্দুকধারীর হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক মার্কিন বেসামরিক দোভাষী নিহত হয়। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বন্দুকধারী ছিলেন আইএসের সদস্য। ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত প্রাচীন নিদর্শনের শহর পালমিরা একসময় জঙ্গিগোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে ছিল।

পরে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওই বন্দুকধারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন ও উগ্রবাদে জড়িত থাকার কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

সেন্টকমের বিবৃতির জবাবে এক্সে দেওয়া পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘আমরা কখনো ভুলব না, আর কখনো থামব না।’

পালমিরা হামলার প্রতিক্রিয়ায় গত মাসেও যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান যৌথভাবে এক দফা হামলা চালায়। তখন সেন্টকম জানায়, ‘৭০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হানা হয়েছে।

পরে যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, ওই হামলায় অন্তত পাঁচজন আইএস সদস্য নিহত হয়। তাদের মধ্যে একটি সেলের নেতাও ছিলেন।

৩ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স যৌথ হামলার ঘোষণা দেয়। তারা জানায়, আইএস যে একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা অস্ত্র মজুতে ব্যবহার করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটিকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

পালমিরায় লক্ষ্যবস্তু হওয়া মার্কিন সদস্যরা ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’-এর সহায়তায় কাজ করছিলেন। এটি আইএসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিযান। ২০১৪ সালে আইএস সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে।

শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিমান হামলা ও অন্যান্য সহায়তায় স্থানীয় স্থলবাহিনীর হাতে জঙ্গিগোষ্ঠীটি পরাজিত হয়। তবে এখনো সিরিয়ায়, বিশেষ করে দেশের বিস্তীর্ণ মরুভূমি এলাকায় আইএসের উপস্থিতি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ায় ওয়াশিংটনের উপস্থিতি নিয়ে সন্দিহান। তাঁর প্রথম মেয়াদে তিনি সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেও শেষ পর্যন্ত দেশটিতে মার্কিন বাহিনী রেখে দেওয়া হয়।

এপ্রিলে পেন্টাগন ঘোষণা দেয়, পরবর্তী মাসগুলোতে সিরিয়ায় মার্কিন সেনাসংখ্যা অর্ধেকে নামানো হবে। আর জুনে সিরিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের দূত টম ব্যারাক বলেন, শেষ পর্যন্ত দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটির সংখ্যা মাত্র একটিতে নামিয়ে আনা হবে।
বিআরএসটি/এসএস

Related posts

খেপলেন পরীমনি, চাইলেন পেটাতে

News Desk

এক কোটির অধিক নতুন সদস্য সংগ্রহে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি

brs@admin

সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে: ড. ইউনূস

News Desk

নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করলো দুদক

News Desk

আজ ঢাকায় আসছে ভুটান

brs@admin

স্ত্রীসহ সিঙ্গাপুর গেলেন মির্জা ফখরুল

News Desk
Translate »