33.1 C
Bangladesh
Friday, October 16, 2026
BRS TIMES
আন্তর্জাতিকপ্রচ্ছদ

বারাক ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ, বিচার দাবি তুলসী গ্যাবার্ডের

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হেয় করতে ‘রাষ্ট্রদ্রোহমূলক ষড়যন্ত্রে’ লিপ্ত ছিলেন বারাক ওবামা প্রশাসনের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা—এমন অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড।

শনিবার (১৯ জুলাই) বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে জানায়, তুলসী গ্যাবার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য তৈরি করে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের গল্প বানান। এর মাধ্যমে তারা মার্কিন জনগণের ইচ্ছাকে অগ্রাহ্য করে ট্রাম্পকে অবৈধভাবে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা চালান।

তুলসী গ্যাবার্ডের ভাষায়, ‘আমরা যে নথিগুলো প্রকাশ করছি, তা পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে—সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য ছিল জনগণের রায়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাতিল করে দেওয়া।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই অপরাধে জড়িতরা যতই প্রভাবশালী হোন না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে। না হলে ভবিষ্যতে কেউ আবার এমন ষড়যন্ত্র করার সাহস পাবে।

গ্যাবার্ড দাবি করেন, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ওবামা প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা অংশ নেন। বৈঠকের পর তৎকালীন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জেমস ক্ল্যাপারের সহকারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশনা দেন—প্রেসিডেন্টের অনুরোধে একটি গোয়েন্দা বিশ্লেষণ তৈরি করতে, যেখানে রাশিয়ার নির্বাচনী হস্তক্ষেপের তথ্য উপস্থাপন করা হবে।

এই নির্দেশনায় সিআইএ, এফবিআই, এনএসএ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। গ্যাবার্ড বলেন, ‘প্রতিবেদনটি ছিল পক্ষপাতদুষ্ট, অসংগত এবং সন্দেহজনক উৎসের ওপর নির্ভরশীল।’ তার দাবি অনুযায়ী, ওই প্রতিবেদনে যেসব তথ্যসূত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলো আগেই ‘অবিশ্বস্ত’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওবামা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মার্কিন গণমাধ্যম, বিশেষ করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের মতো প্রতিষ্ঠানে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, রাশিয়া সাইবার হামলা ও হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করেছে।

তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, এসব মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয় এবং নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে অকার্যকর করে তুলতে সচেতন প্রচেষ্টা চালানো হয়।

গ্যাবার্ড জানান, তিনি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দাখিল করেছেন, যাতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তার ভাষায়, ‘মার্কিন গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এ বিচার প্রক্রিয়ার ওপর। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এটি জরুরি।’

বিআরএসটি / জেডএইচআর

Related posts

ইরানের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পোস্ট, ক্ষমা চাইলেন লস অ্যাঞ্জেলেসের কাউন্টি শেরিফ

brs@admin

ইরানে হামলার ইস্যুতে ওয়াশিংটন দ্বিধাবিভক্ত, মার্কিন কূটনীতিকের মন্তব্য

brs@admin

উপদেষ্টা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

News Desk

উত্তরার ঘটনায় ১৯ মরদেহ উদ্ধার: ফায়ার সার্ভিস

News Desk

ইসরায়েলি হামলায় ১১ জন মন্ত্রী নিহত, নিশ্চিত করল হুথিরা

News Desk

প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানালেন জামায়াত আমির

News Desk
Translate »