32.8 C
Bangladesh
Sunday, October 18, 2026
BRS TIMES
পতাকার মর্যাদা রক্ষা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব-প্রধানমন্ত্রী
অন্যান্য সংবাদজাতীয়প্রচ্ছদশিরোনাম

পতাকার মর্যাদা রক্ষা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় স্বার্থ, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাকে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় পতাকা একটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আত্মত্যাগ ও গৌরবের প্রতীক। এই পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব। দেশের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা, সততা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালনের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক করে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করা প্রয়োজন। এ জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং বাহিনীর বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বই সশস্ত্র বাহিনীর প্রকৃত শক্তি

একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাহিনীর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থার মধ্যে। সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড বা নির্দেশনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। সামরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকা বাহিনীর সদস্যদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, একটি বাহিনীর পেশাগত সাফল্য অর্জনের পেছনে দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ ও দায়িত্বশীলতার ভূমিকা থাকে। এসব গুণের সমন্বয়েই একটি বাহিনী জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।

ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড একটি ইউনিটের গৌরবের প্রতীক

অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ইউনিটের পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়। এটি ওই ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।

তিনি বলেন, জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়ত দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এ পতাকার মর্যাদা রক্ষার মধ্য দিয়ে দেশের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জন একটি ইউনিটের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি এটি আরও বড় দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকারও। এ স্বীকৃতি পাওয়ার অর্থ হলো ভবিষ্যতে অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালনের নতুন শপথ নেওয়া।

তিনি বলেন, জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের জন্য দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম

বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধে এর ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলা শুরু করলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। এরপর তিনি রেজিমেন্টের বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাংলাভাষী সেনাসদস্যরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের প্রতিরোধ ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তারেক রহমান বলেন, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় ও দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।

সংবিধান ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকার আহ্বান

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যকে পেশাগত সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। সামরিক বাহিনীর ঐতিহ্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি।

আধুনিক যুদ্ধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, যুদ্ধের ধরন ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একসময় যুদ্ধের প্রধান ক্ষেত্র ছিল স্থল, সমুদ্র ও আকাশ। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশের ফলে এখন সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতাও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পরিবর্তিত বাস্তবতায় দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। প্রযুক্তিগত পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

তারেক রহমান বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা গেলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও মানুষের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার গুরুত্ব কমবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প হতে পারে না। তাই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও দায়িত্বশীল জনবল গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

দুর্যোগ মোকাবিলা ও শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করে না; জাতীয় দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন সংকটের সময় দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।

তিনি বলেন, দুর্যোগকালে উদ্ধারকাজ, জরুরি সহায়তা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। জাতীয় প্রয়োজনে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার জায়গাকে আরও শক্তিশালী করে।

এ ছাড়া বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তাঁদের পেশাদারত্ব, দক্ষতা এবং দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব রয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগ

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণের বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাহিনীর সদস্যদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি দক্ষ ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশের উন্নয়নের পাশাপাশি তাঁদের কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি। বাহিনীর সদস্যরা যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেশের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ।

ছয়টি ইউনিটসহ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান

অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হয়। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ইউনিটগুলো হলো—৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট।

ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর পেশাগত সাফল্য, শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা ও অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ স্বীকৃতি ভবিষ্যতেও দায়িত্ব পালনে আরও নিষ্ঠাবান ও পেশাদার হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Related posts

ফরিদপুরে বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার

brs@admin

দশদিন পর বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু

brs@admin

খুলনায় এনসিপি নেতা গুলিবিদ্ধ, সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির নজরদারি বৃদ্ধি

News Desk

আগামী ঈদের আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কাজ করছে সরকার: ড. খলিলুর রহমান

brs@admin

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের সাক্ষাৎ

News Desk

জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে অগ্নি বিষয়ক মহড়া

News Desk
Translate »