সারাদেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলছে। একইসঙ্গে চলছে মাধ্যমিক পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা। এর মধ্যেও থেমে নেই বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। আকাশে মেঘ জমলেই চলে যায় বিদ্যুৎ, আর ঝড়, বৃষ্টি কিংবা মৃদু বাতাস হলে দিনের পর দিন বিদ্যুতের দেখা-ই মেলেনা। রবিবার ভোলার লালমোহনে বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুতহীন হয়ে পড়ে পুরো উপজেলা। তাই মোমবাতি জ¦ালিয়ে পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।
সকাল ১০টায় অর্ধবাষিক পরীক্ষা চলছিল উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের বাংলা বাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসায়। এসময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাধ্য হয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদেরকে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদ, এমরান, শান্ত জানায়, আজ ইংরেজি প্রথমপত্রের পরীক্ষা চলছিল তাদের। বৃষ্টি থাকায় আর বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেছে। তাই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায় পরীক্ষা কক্ষ। বাধ্য হয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
মিজানুর রহমান, আবু তাহের ও নাসির উদ্দিনসহ কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, ভোলায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হলেও ভোলাবাসীই বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে লালমোহনে লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। তবে বিল আসছে নিয়মিত, এতেও রয়েছে নানান অসঙ্গতি। লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিল থেকে কবে পরিত্রাণ পাবো জানা নেই।
বাংলা বাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আল এমরান, জাহিদ ও হেলাল উদ্দিন বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রতিদিনই লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় অফিসের কাজ করতেও সমস্যা হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে লালমোহন পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন লাইনে সমস্যা হচ্ছে। একটানা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে গাছের ডালপালা ও গাছ ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ছে। তবে এমনিতে কোন লোডশেডিং নেই।
শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, সর্বদা লোডশেডিংমুক্ত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি এলাকাবাসীর।

