সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
BRS TIMES
জাতীয়প্রচ্ছদশিরোনাম

ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্কের পুনরুদ্ধার কেবল সৎ আত্মসমালোচনার মাধ্যমেই সম্ভব : ফারুকী

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক তলানিতে এসে পৌঁছেছে। তাই আঞ্চলিক আস্থা পুনর্গঠনের জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানো অপরিহার্য।

‘সৎ আত্মসমালোচনার মাধ্যমেই এটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব,’ তিনি ভারতীয় ম্যাগাজিন – দ্য উইক-এর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।

ফারুকী’র সাক্ষাৎকারটি গতকাল ম্যাগাজিনের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারের সম্পাদিত অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে যিনি বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাকে পর্দায় তুলে ধরেছেন, আপনি বাংলাদেশের সমাজের আজকের এই বদলে যাওয়াকে কীভাবে দেখেন?

ফারুকী: আমার কাছে যে কোনো গণ-অভ্যুত্থান বা বিপ্লব মূলত একটি সাংস্কৃতিক ঘটনা। হ্যাঁ, এর একটি রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ থাকে এবং রাজনৈতিক ফলাফলই আপাত লক্ষ্য বলে মনে হয়, কিন্তু মূলত সাংস্কৃতিক চ্যুতি বা ফাটলগুলোই রাজনীতির পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দেয়।

বড় ধরনের অভ্যুত্থান মানুষকে নতুন করে ভাবার, চিন্তা করার সুযোগ দেয় তারা কারা, কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে এখানে পৌঁছালো এবং এখান থেকে তাদের কোথায় যাওয়া প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় এমন অনেক বিষয় সামনে চলে আসে যা হয়তো বছরের পর বছর ধরে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। এই সব কিছুকে মোকাবিলা করা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ পথ খুঁজে বের করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি পর্যায়।

প্রশ্ন: সিনেমা মূলত আমাদের সমাজ দ্বারা প্রভাবিত হয়। এটি আপনার গল্প বলার ধরণকে কীভাবে রূপ দিয়েছে?

ফারুকী: আমি যদি পেছনে ফিরে তাকাই এবং সিনেমা তৈরির সৃজনশীল প্রক্রিয়াটি বোঝার চেষ্টা করি, তবে দেখি এটি একটি ট্রিগার পয়েন্ট বা উদ্দীপক মুহূর্ত থেকে শুরু হয়। এটি কোনো একটি একক ছবি, গল্পের কোনো মূল মুহূর্ত বা কোনো চরিত্রের একটি বিশেষ অবস্থা হতে পারে।

যখন এই বিষয়গুলো আমাকে নাড়া দেয়, তখন আমার মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ এবং অনিদ্রা শুরু হয়। আমি এই উদ্বেগটিকে নিজের মধ্যে বাড়তে দেই। কিছু সময় পর যদি এটি ফিকে হয়ে যায় এবং আমাকে আর কষ্ট না দেয়, তবে আমি বুঝতে পারি যে এটি নিয়ে আমার সিনেমা বানানোর প্রয়োজন নেই।

কিন্তু যদি সেই কষ্ট, উদ্বেগ বা মানসিক অস্থিরতা আমার মধ্যে থেকে যায়, তবে আমি জানি যে আমাকে সিনেমাটি তৈরি করতে হবে এবং সেই কষ্টটি দর্শকের কাঁধে স্থানান্তর করতে হবে। এটিই আমার আত্ম-নিরাময়ের (ংবষভ-যবধষরহম) উপায়। এই কারণেই আমি মনে করি আমার সিনেমাগুলো আমার ডায়েরির মতো। আমার প্রতিটি চরিত্র যেন সরাসরি সেই জগত থেকে উঠে এসেছে যেখানে আমি বাস করি, যাদের সাথে আমি মিথস্ক্রিয়া করি বা যাদের সম্পর্কে আমি জানতে পারি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ইতিহাস রয়েছে যা ভাষা, প্রতিরোধ সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। আজ সেই পুরনো কাঠামো বা পরিচয়গুলো যেন ভেঙে পড়েছে। আপনার মতামত কি?

ফারুকী: আমাদের দীর্ঘ সময় নিপীড়নের মধ্যে বসবাসের ইতিহাস রয়েছে। আমরা ব্রিটিশ এবং জমিদার-এই দ্বৈত উপনিবেশবাদের অধীনে ছিলাম। আমরা দেখেছি কীভাবে স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্রের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল এবং বাংলা বিভক্ত হয়েছিল, যা আমাদের জন্য পাকিস্তান নামক একটি নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্রের একমাত্র বিকল্প রেখে গিয়েছিল। শিগগিরই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে ‘মুক্তি’ তখনও অনেক দূরের বিষয়। তাই আমাদের ইতিহাসটি বেশ জটিল।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের একটি একপেশে আখ্যান বা ন্যারেটিভ মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। অভ্যুত্থানের পর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, যা অনেক দেশেই ঘটে থাকে। কিন্তু একই সাথে এটিও সত্য যে বাংলাদেশের মানুষ খুব দ্রুত পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যা একটি ইতিবাচক বিবর্তনের লক্ষণ। আমাদের যাত্রাপথ হয়তো বন্ধুর হবে, কিন্তু আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাবই।

প্রশ্ন: স্বাধীনতার কথা বলতে গেলে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিক ও শিল্পীদের ওপর আক্রমণকে আপনি কীভাবে দেখেন?

ফারুকী: যে কোনো সমাজের জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মৌলিক একটি বিষয়। তবে সমাজগুলো প্রায়ই এটি নিশ্চিত করতে হিমশিম খায়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যে দেশ থেকে এসেছেন সেখানেও দীর্ঘকাল ধরে এই ফ্রন্টে সংগ্রাম চলছে। এমনকি আধুনিক বলে মনে হওয়া সমাজগুলোরও নিজস্ব সীমাবদ্ধতা আছে। গায়ক, সাংবাদিক এবং সংবাদপত্রের

স্বাধীনতার ওপর হামলার বিষয়ে বলতে গেলে, নির্দিষ্ট করে না বললে উত্তর দেওয়া কঠিন। আপনি যদি ‘প্রথম আলো’ এবং ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ জঘন্য অগ্নিসংযোগের ঘটনার কথা বোঝান, তবে সেগুলো অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংখ্যক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।

বর্তমান সরকারের অধীনে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কোনো ধরনের হুমকির মুখে নেই। হ্যাঁ, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে যেখানে কিছু বাউল অনুষ্ঠান (বাংলার মরমি লোকসংগীত ঐতিহ্য) শুরুতে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আমরা আয়োজন করেছি।

সত্যি কথা হলো, গত এক বছরে বাংলাদেশ বৈচিত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং নানামুখি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সময় পার করেছে। মাজারের সংগীতানুষ্ঠান থেকে শুরু করে বাউল গান, রক এবং র‌্যাপ সংগীত সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সংখ্যার বিচারে এর চেয়ে ভালো সময় আগে কখনো আসেনি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সব নৃগোষ্ঠী একত্রিত হয়ে শাহবাগে কেন্দ্রীয় নববর্ষের র‌্যালিতে অংশ নিয়েছে, যা আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে পরিণত হয়েছে। এর আগে এটি মূলত কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। মন্ত্রণালয় এবারই প্রথমবারের মতো ঈদ, বুদ্ধ পূর্ণিমা, দুর্গাপূজা এবং বড়দিন উদযাপন করেছে।

আপনি লালন সম্পর্কে জানেন তো? সম্ভবত এই ভূখণ্ডের জন্ম দেওয়া সবচেয়ে প্রভাবশালী দার্শনিক, কবি এবং সংগীতজ্ঞ। তাঁর পংক্তিগুলো জাতি, বর্ণ এবং ধর্মের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবতার এক নতুন অর্থ দিয়েছে। তাঁর প্রশ্নগুলো অনেকভাবে ধর্মীয় স্থিতাবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এই মহান সাধক দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কাছে সমাদৃত হলেও, তথাকথিত সংবেদনশীলতার কারণে রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠান কখনো তাঁকে যথাযথভাবে ধারণ করার সাহস দেখায়নি।

অন্তর্বতীকালীন সরকার তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীকে রবীন্দ্রনাথ এবং কাজী নজরুল ইসলামের পাশাপাশি সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। আমরা সব জেলায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি, যার প্রধান কেন্দ্র ছিল কুষ্টিয়া এবং ঢাকা। কুষ্টিয়ার লালন মেলায় অভূতপূর্বভাবে পনেরো লক্ষ দর্শনার্থী সমবেত হয়ে লালন সাঁইয়ের গান উদযাপন করেছে, যা স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত অসাম্প্রদায়িক।

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উদযাপনে ৬৪টি জেলাতেই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করা হয়েছে। সুতরাং, বর্তমানে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তার বিপরীতে সাংস্কৃতিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেক বেশি সক্রিয় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রমাণিত হয়েছে।

এবার মূল প্রসঙ্গে ফিরি। সংবাদপত্র অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা আমাদের মেয়াদে শুরু হয়নি। একইভাবে বাউলদের ওপর হামলাও এবারই প্রথম নয়। কোনো ধরনের হামলাকেই কোনোভাবে সমর্থন করা যায় না। কিন্তু আমার আপত্তি হলো যেভাবে এই বিষয়গুলোকে বর্ণনা করা হচ্ছে। এটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন এই সব পরিবর্তন ফ্যাসিস্ট শাসক ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে অথবা এর পেছনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যোগসাজশ আছে। এটি সত্য নয়।

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ‘সংগ্রাম’ এবং ‘আমার দেশ’-এর মতো সংবাদপত্রের অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাউলরা গত কয়েক বছর ধরেই নিয়মিতভাবে হামলার শিকার হয়েছেন। তার মানে কি এই যে আমরা বেআইনি কর্মকাণ্ডের সহযোগী? না। এগুলো কি আগের মতো চলতে থাকা উচিত? না। কিন্তু এই সরকার যেসব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে, সেটিও আপনাকে বুঝতে হবে।

প্রশ্ন: আপনি কোন ধরনের চ্যালেঞ্জের কথা বলছেন?

ফারুকী: আমরা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া একটি ব্যবস্থা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের পর পুরো পুলিশ বাহিনী আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ পুলিশের কোনো উপস্থিতি ছিল না। জুলাই বিপ্লবের সময় গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত একটি পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন করা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। আমি বলব, এটিকে পুরোপুরি কার্যকর করতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।

আপনি যদি বিশ্বের বিভিন্ন গণ-অভ্যুত্থান এবং বিপ্লবের ইতিহাস দেখেন, তবে দেখবেন সেগুলো নিজস্ব কিছু চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখায় কারণ অভ্যুত্থান তাদের সেই ক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দেয়, যে ক্ষমতা একজন কঠোর শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করেছে।

কাজেই অভ্যুত্থান এবং বিপ্লবের সময়গুলো স্বাভাবিক সময় নয়। তবে আইন-শৃঙ্খলার মাঝে মাঝে ঘটে যাওয়া বিচ্যুতিগুলোকে অভ্যুত্থানের দায় হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর পরিবর্তে সেগুলোকে ফ্যাসিস্ট শাসনের তৈরি করা নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার দায় হিসেবে দেখা উচিত। সেই ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়া অনিবার্য ছিল, যা একটি বিশৃঙ্খলা ও শূন্যতা তৈরি করেছে। সেই শূন্যতা পূরণ করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সময়ের প্রয়োজন।

এত কিছুর পরেও আমরা সবকিছু সচল রাখতে পেরেছি এবং একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমি আশা এবং বিশ্বাস করি যে ইতিহাস আমাদের প্রতি সুবিচার করবে।

প্রশ্ন: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্কের যে শক্তিশালী যোগসূত্র ছিল তা বর্তমানে চাপের মুখে বলে মনে হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই সম্পর্ক পরিবর্তনের বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

ফারুকী: জাতি রাষ্ট্রগুলো প্রায়ই তাদের অতীত নিয়ে আচ্ছন্ন থাকে। তবে দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং বন্ধুত্ব মূলত বর্তমানের ওপর ভিত্তি করে চলে। বর্তমান সময়ে অভিন্ন স্বার্থ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতেই দেশগুলো বন্ধু হয়ে ওঠে।

পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছে, তার মানে কি এই যে আমরা চিরকাল ঘৃণা বিনিময় করব? ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে তলানিতে পৌঁছেছে, আসুন আমরা তা স্বীকার করি। সেই সঙ্গে যে কারণগুলো আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে তাও চিহ্নিত করি। তবেই আমরা সামনের পথ খুঁজে পাব।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের যাত্রাবিন্দু হওয়া উচিত জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছার স্বীকৃতি। ভারত বর্তমানে সেই সব ব্যক্তিদের আশ্রয় দিচ্ছে যারা অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছে। বাংলাদেশিদের মূল ক্ষোভ কোথায়? আমি আপনাকে আমাদের অবস্থানে দাঁড়িয়ে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে বলব। একজন ভারতীয় হিসেবে আপনি নিশ্চয়ই অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ পছন্দ করবেন না। বাংলাদেশিরাও ঠিক একই সাধারণ জিনিসটি চায়। আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধুত্ব চাই, তবে সেই বন্ধুত্ব শুরু হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং প্রকৃত অঙ্গীকারের ভিত্তিতে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে, যা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানও এতে জড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি উত্তরণে সম্ভাব্য কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

ফারুকী: সত্যি বলতে, এতে ক্রিকেটের বড় ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশ যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করেছিল। অতীতে ভারত, পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়া একই ধরনের অনুরোধ করেছিল এবং তাদের সেই অনুরোধ রাখা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই বিবেচনা করা হয়নি। ফলে ফেয়ারনেস বা ন্যায় বিচারের ধারণার প্রতি আস্থা বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে। আমি ঠিক জানি না কীভাবে এটি মেরামত করা সম্ভব, তবে সেই বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করাই হতে হবে প্রথম পদক্ষেপ।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ক্রিকেট অর্থনীতিতে ভারত সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু এই অবস্থানের সাথে দায়িত্বও জড়িয়ে থাকে। আমি আশা করি ভারত তার ভূমিকা পালন করবে এবং ন্যায় বিচারের নীতিকে সবকিছুর উপরে স্থান দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনবে।
বিআরএসটি/ এমএ

Related posts

সাতক্ষীরায় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ

News Desk

নিজ বাড়ির গেইটের সামনে থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

News Desk

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

brs@admin

ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র এখনও চলমান

News Desk

নেপালে ‘জেন-জি’ আন্দোলনে পলাতক বন্দিরা ফিরে না এলে বিশেষ অভিযান

News Desk

ভারত-পাকিস্তান ৮৭ ঘণ্টার যুদ্ধ : কার কত আর্থিক ক্ষতি হলো

brs@admin
Translate »