মণিরামপুর প্রতিনিধি : গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন মণিরামপুরের সবজি চাষী হিসেবে খ্যাত মণিরামপুর পৌর এলাকার তাহেরপুর গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান। নানা ধরনের উন্নত জাতের সবজি আবাদ করে তিনি একজন সফল সবজি চাষী হিসেবে বেশ পরিচিত। গত কয়েকবছর ধরে তিনি গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে সাফল্য পেয়ছেন। এখন অনান্য চাষীরাও তাকে অনুকরনীয় করছেন।
চলতি মৌসুমে তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় ১৮হাজার টাকা ব্যয়ে আস্থা জাতের গ্রীষ্মকালীন তরমুজের বীজ কিনে পৌর এলাকার তাহেরপুর মাঠে ৫০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করেছিলেন।
মালচিং পদ্ধতিতে চাষ লাভবান সত্বেও অতিবৃষ্টিজনিত বৈরি আবহাওয়ায় অনেক চারা রোপনের পর নষ্ট হয়ে যায়। বাকী বেঁচে থাকা গাছ রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব বেশী হওয়ায় গাছগুলি লতাপাতায় ফুলেফলে তেমন বৃদ্ধি লাভ করতে পারেনি। নানা প্রতিকুলতায় তিনি হাল ছাড়েননি। তরমুজ ক্ষেতের বেডে পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে শসার আবাদ করে একই সাথে শসা ও তরমুজের মাচা বানিয়ে পরিচর্যা অব্যাহত রেখেছেন। এখন তার তরমুজ ক্ষেত সব প্রতিকুলতাকে কাটিয়ে ফুলে ফলে ভরে উঠেছে।
বেশ কিছু তরমুজ গাছে ফল এসেছে এবং বড় আকার হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিন পৌর এলাকার তাহেরপুর গ্রামের মাঠে কৃষক খলিলের তরমুজ ক্ষেতে যেয়ে দেখা যায় তিনি একই সাথে তরমুজ ও শসার মাচায় পরিচর্যা করছেন। এ সময় কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ একটি লাভবানজনক ফসল। অসময়ে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে তরমুজের মূল্য খুব বেশি থাকে। তাছাড়া হাইব্রিড জাতের গ্রীষ্মকালীন তরমুজ আস্থা জাতের তরমুজের সাইজটা বেশ বড় হয়।
স্বাভাবিকভাবে প্রতিটির ওজন ৪/৫ কেজি হয়ে থাকে। ৪/৫ জেজি ওজনের একটি তরমুজ স্থানীয় বাজারে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা যায়। তিনি আরও বলেন, বর্তমান ক্ষেতে ছোট ছোট অসংখ্য কুড়ি/ফল ধরেছে। তিনি তার তরমুজ ক্ষেত নিয়ে বেশ আশাবাদি ।
উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিএম হাফিজুর রহমান কৃষক খলিলুর রহমানকে তরমুজ চাষাবাদ নিয়ে সব সময় পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
তিনি জানান, আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে জাত নির্বাচনসহ এই চাষাবাদে বীজ ক্রয়ে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ মাহমুদা আক্তার মুঠোফোনে জানান, যে কোন চাষাবাদ কৃষকের চাহিদা ও পছন্দ অনুযায়ী হয়ে থাকে। কৃষক খলিলের লাগানো আস্থা হাইব্রিড জাত এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী কিনা তা জানাতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ওই কৃষকের ক্ষেত পরিদর্শন করে জানাবো।
বিআরএসটি/এসএস
next post

