এবার ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার পরিস্থিতিকে গণহত্যা বলে অভিহিত করলেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। তিনি বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, ‘গাজায় যা ঘটছে তা গণহত্যা’। তিনি যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির সবচেয়ে সিনিয়র নেতা যিনি গাজা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরকালে বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক অনুষ্ঠানে সাদিক খান বলেন, ‘যখন আমি শিশুদের ক্ষুধার্ত থাকার ছবি দেখি..যখন আমি গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে দেখি; যখন আমি অভাবী মানুষের কাছে ত্রাণ সরবরাহের অভাব দেখি; যখন আমি মানুষের তৈরি দুর্ভিক্ষ দেখি; যখন আমি আইসিজে-র অন্তর্বর্তীকালীন রায় পড়ি, এবং তারপর চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ কমিশনের প্রতিবেদন দেখি, তখন আমার মনে হয় গাজায় আমরা যে গণহত্যা দেখতে পাচ্ছি, তা আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে।’
গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা নিয়ে বৈশ্বিক জনমত ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসনকে সরাসরি গণহত্যা আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সিনেটর যিনি গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করলেন।
তিনি বলেন, গাজায় ইসরাইলের হামলা গণহত্যার শামিল। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ফিলিস্তিনিদের ওপর এই হত্যাযজ্ঞে জড়িত থাকার অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন।
স্যান্ডার্স আরও বলেন, ইসরাইলি কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যেই গাজাকে ধ্বংস করার আহ্বান, ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলার হুমকি এবং ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর মিছিল ও দুর্ভিক্ষ এই সত্যকে প্রমাণ করছে। তিনি বলেন, ‘হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট। আর তাই সিদ্ধান্তও অনিবার্য— ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে।’
এছাড়া বুধবার স্যান্ডার্সের মতোই ইসরাইলকে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করেন মার্কিন কংগ্রেসওম্যান বেকা বালিন্ট। ভেরমন্ট অঙ্গরাজ্যের এই ইহুদি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি এক নিবন্ধে লেখেন, ‘এই মুহূর্তে শিশু ও নবজাতকেরা অনাহারে মরছে, অথচ চরমপন্থি ইসরাইলি সরকার ত্রাণ আটকে দিয়ে বেসামরিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এটি কেবল যুদ্ধের করুণ প্রাণহানি নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে ধ্বংসের চেষ্টা।’
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী (আইডিএফ)। এই আগ্রাসনে ভূমধ্যসাগরপাড়ের এক সময়ের সাজানো-গোছানো গাজা উপত্যকা এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপ। ভিটেমাটি হারিয়ে এর ২০ লক্ষাধিক অধিবাসী এখন উদ্বাস্তু। খোলা আকাশের নিচে তাদের বসবাস।
৬৫ হাজারের বেশি নাগরিক নিহত এবং আরও ১ লাখ ৬৫ হাজার আহত। বর্তমানে ইসরাইল গাজা সিটি দখলের প্রচেষ্টা জোরদার করায় নতুন করে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ঘটছে। সেখানে পুরোদমে দুর্ভিক্ষ চলছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
প্রায় দুই বছর পর গত মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের একটি তদন্ত দল প্রথমবারের মতো এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস’ করার উদ্দেশ্যেই এই গণহত্যা চালানো হচ্ছে। এই কর্মকাণ্ডে উসকানি দেয়ার জন্য তারা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়ী করেন তারা।
বিআরএসটি/এসএস

