পিরোজপুর প্রতিনিধি : পেশায় তিনি পুলিশের কনস্টেবল। চাকরিতে ঢোকার সময় বাবার বসতবাড়ি ও সামান্য ফসলি জমি ছাড়া তেমন কিছুই ছিল না। এক দশকের ব্যবধানে এলাকায় চারতলা আলিশান বাড়ি, নিজ গ্রামে এখন ৫ বিঘা ফসলি জমি ও চলাফেরা করেন অর্ধকোটি টাকার গাড়িতে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে রয়েছে তাঁর সখ্যতা। কয়েক বছরের ব্যবধানে একজন পুলিশ কনস্টেবলের এমন আর্থিক পরিবর্তন নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা চলছে।
পুলিশের ওই কনস্টেবলের নাম আব্দুল খালেক (৩৮)। মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের শাখারীকাঠি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা এস্কান্দার জমাদ্দারের ছেলে তিনি। তাঁর আলিশান বাড়িটি মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড। এছাড়া রাজধানী ঢাকায়ও তার ফ্ল্যাট রয়েছে।
জানতে চাইলে আব্দুল খালেক বিআরএস টাইমসকে বলেন, রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে তিনি কর্মরত আছেন। বাড়িটি তিনি বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন থেকে ঋণ নিয়ে করেছেন। তবে গ্রামের ফসলি জমি কেনা ও দামি গাড়ি ব্যবহারের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল খালেকের বাবা এস্কান্দার জমাদ্দারের বসতবাড়ি ও সামান্য ফসলি জমি ছিল। এক দশক আগে হঠাৎই খালেকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি শুরু হয়। তখন থেকে তিনি গ্রামে জমি কেনা শুরু করেন। কয়েক বছর আগে মঠবাড়িয়া পৌরসভার গয়ালীপাড়া মহল্লায় জমি কিনে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে চারতলা বাড়ি করেন। বাড়ির দ্বিতীয় তলায় খালেকের স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকেন। মাঝে মধ্যে খালেক সেখানে যাতায়াত করেন।
এছাড়া সব সময় নিশান ব্রান্ডের এক্স ট্রেইল হাইব্রিড একটি গাড়িতে চলাফেরা করেন আব্দুল খালেক। গাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য ৪৮ লাখ থেকে ৫২ লাখ টাকা। খালেকের গাড়িটি পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য শামীম শাহনেওয়াজকেও ব্যবহার করতে দেখা যায়।
সম্প্রতি গয়ালীপাড়ায় খালেকের বাড়ি ঘুরে দেখা গেছে, চারতলা বাড়ির প্রতিটি তলায় চারটি করে ইউনিট। দ্বিতীয় তলায় দুটি ইউনিট একত্র করে খালেকের পরিবার থাকেন। যার প্রতিটি কক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইন করা। ঘরে আছে দামি আসবাবপত্র।
নাম প্রকাশ না করে শাঁখারীকাঠি গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, খালেকের বাবা এস্কান্দার জমাদ্দার দরিদ্র কৃষক ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় খালেক প্রায় ১৮ বছর আগে পুলিশে চাকরি পান। এরপর বিভিন্ন সময়ে এলাকার অনেককে খালেক চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিভাগে টাকার বিনিময় চাকরি দিয়েছেন। কয়েক বছর আগে খালেক গ্রামে জমি কেনা শুরু করেন। এরপর জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে খালেক পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন।
তুষখালী বাজারের ব্যবসায়ী শামীম হাওলাদার বিআরএস টাইমসকে বলেন, আব্দুল খালেক পুলিশের কনস্টেবল হয়ে কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন আছে। মঠবাড়িয়ার সাবেক এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সচিবালয়ে ঘনিষ্ঠ কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে খালেক চাকরি দেওয়ার কথা বলে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ঢাকায় তাঁর বাড়ি আছে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।
মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খালেকের নামে স্থানীয় থানায় মামলা রয়েছে। কয়েক মাস আগে পুলিশ তাকে ঐ মামলায় গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খালেককে গ্রেপ্তার না করার জন্য মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে ফোন দেন।
মঠবাড়িয়া পৌর শহরের বাসিন্দা হারুন অর রশিদ জানান, আব্দুল খালেককে অনেক আগে থেকেই চিনি। সে দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিল। পুলিশে চাকরি কয়েক বছরের মধ্যে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। মঠবাড়িয়া সাবেক সংসদ সদস্য ডাক্তার রুস্তম আলী ফরাজীর এক সময় ঘনিষ্ঠ ছিল খালেক। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করেন। খালেকের এত টাকার রহস্য উদঘাটন করার জরুরি।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, আব্দুল খালেকের নামে বিভিন্ন সময় দুদুকে অভিযোগ করার পরেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নেয়নি। তবে তার আয়ের উৎস খতিয়ে দেখা উচিত।
বিআরএসটি/এসএস

